খেলাধুলা

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার, মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরিতে লজ্জা এড়িয়েছে বাংলাদেশ

খেলা ধুলা ডেস্ক।।

 

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হার, মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরিতে লজ্জা বাংলাদেশ ।

যদি ম্যাচটা দেখে থাকেন কিংবা কোনোভাবে ম্যাচের খবরাখবর কিছুটাও রেখে থাকেন, তাহলে সম্ভবত এই ম্যাচের ফল কী, সেটি নিয়ে আপনার আগ্রহ থাকার কথা নয়। হ্যাঁ, বাংলাদেশ কত রানে হেরেছে, সেটি শেষ পর্যন্ত জানার একটা আগ্রহ থাকলেও থাকতে পারে। সে উত্তরটা জানিয়ে দেওয়া যাক – মুম্বাইয়ে আজ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১৪৯ রানে হেরেছে বাংলাদেশ।

 

তবে হারের আগে লেজের শক্তিটা আরেকবার বুঝিয়ে দিল বাংলাদেশ। ৫৮ রানে ৫, ৮১ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত অলআউট হওয়ার আগে করেছে ২৩৩ রান। অর্থাৎ, শেষ ৪ উইকেটে তুলেছে ১৫২ রান! তার পুরো কৃতিত্ব মাহমুদউল্লাহর। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি দেখার অপেক্ষা তাঁর ব্যাটেই ঘুচেছিল ২০১৫ সালে, সেবার দুটি সেঞ্চুরিই করেছিলেন। সেই মাহমুদউল্লাহ এবারের বিশ্বকাপের দলে জায়গা হারানো আর ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে জিতে দলে ঢুকলেন, আগের দুই ম্যাচে ফিফটির কাছাকাছি গিয়েছিলেন। আজ দলকে লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়ে করলেন সেঞ্চুরি!

 

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ যে লজ্জার রেকর্ড গড়ে হারের জায়গায় একটা ‘সম্মানজনক হার’ পেল, সে কৃতিত্ব মাহমুদউল্লাহর ১১১ বলে ১১ চার ও ৪ ছক্কায় ১১১ রানের ইনিংস, আর শেষদিকে তাঁকে সঙ্গ দেওয়া নাসুম-হাসান-মোস্তাফিজদের।

 

বাংলাদেশ কি জিততে পারবে – প্রশ্নটা শুধু ম্যাচের আগে, বড়জোর দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের কিছুটা সময় পর্যন্তই প্রাসঙ্গিক ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংসের পর প্রশ্নটা বদলে হয়ে গেল – বাংলাদেশ সম্মানজনক হার নিয়ে ফিরতে পারবে? কেউ কেউ তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন রাখলেন, বাংলাদেশ কুইন্টন ডি ককের (১৭৪) রানটাও করতে পারবে!

 

সেখানেও থামা গেল না। বাংলাদেশের ইনিংসের কিছুক্ষণ পরই রেকর্ড বই নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে গেল। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারটা যেন কত রানের! রেকর্ড বই জানাল, সেটি আফগানিস্তানের দখলে, ২০১৫ বিশ্বকাপে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার কাছে তারা হেরেছিল ২৭৫ রানে। বাংলাদেশ যখন ৫ উইকেট হারায় ৫৮ রানে, তখন আফগানিস্তানের রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার শঙ্কা তো জোরেশোরেই ছিল!

 

আফগানিস্তানের রেকর্ড কী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের এই যুগে নতুন আলোচনা শুরু হলো – ডি কক পরের কথা, দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস খেলা হেনরিখ ক্লাসেনের (৪৯ বলে ৯০) রান পেরোতে পারবে বাংলাদেশ?

 

মাহমুদউল্লাহকে ধন্যবাদ, বাংলাদেশকে সে লজ্জার রেকর্ডের হাত থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য।

 

মিরাজ দলকে ৮১ রানে রেখে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরার সময়ও সে শঙ্কা ছিল। অন্য প্রান্তে মাহমুদউল্লাহ আরেকবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ‘লজ্জানিবারণকারী’ হয়ে যাওয়াতে রক্ষা। সপ্তম উইকেটে নাসুমের সঙ্গে তাঁর ৪১ রানের জুটিতে আফগানিস্তানের রেকর্ডের ভয় কাটে। তবে হঠাৎ একটু আগ্রাসী হয়ে কোয়েটজিকে টানা দুই চার মারলেন নাসুম, ২৯তম ওভারের তৃতীয় বলে কোয়েটজির বাউন্সারে কোয়েটজিরই হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন (১৯ বলে ১৯)। ১২২ রানে সপ্তম উইকেটের পতন, তখনো দক্ষিণ আফ্রিকার রান থেকে ২৬০ রান দূরে বাংলাদেশ।

 

তখন আবার রেকর্ড নিয়ে টানাটানি। রানের হিসাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের রেকর্ডটা যেন কত? উঠে এল ২৩ বছর আগের এক ম্যাচ – পাকিস্তানের বিপক্ষে যেদিন ২৩৩ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ।

 

অষ্টম উইকেটে হাসান মাহমুদের (২৫ বলে ১৫) সঙ্গে ৩৭ রানের জুটিতে সে শঙ্কাও দূর করলেন মাহমুদউল্লাহ। অন্তত মনকে চোখ ঠারানো গেল – যাক, বাংলাদেশ আরেক লজ্জা থেকে তো মুক্তি পেল। সে পথে মাহমুদউল্লাহর ফিফটিও হয়ে গেল (৬৭ বলে, ৬ চারে)।

 

বাঘের থাবা না হোক, লেজের শক্তিটা এরপরও বুঝিয়ে গেল বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে নাসুম-হাসানের পর নবম উইকেটে দারুণ সঙ্গ দিলেন মোস্তাফিজুর রহমানও। এ জুটিতে ৪২তম ওভারের মধ্যে ২০০ রানও পার করে ফেলল বাংলাদেশ! ‘লজ্জা’র যত রেকর্ড নিয়ে ইনিংসজুড়ে শঙ্কায় থাকা বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী মনে তখন নতুন রোমাঞ্চ – মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরি হবে?

 

দলের রান যখন ২০০ হলো, ৭৪ রানে একবার ক্যাচ দিয়েও উইলিয়ামসের সৌজন্যে বেঁচে যাওয়া মাহমুদউল্লাহর রান তখন ৯২ বলে ৮৮। ইনিংসে বল তখনো অনেক বাকি। আবার বিরাট কোহলির মতো সেঞ্চুরির জন্য প্রয়োজনীয় রান আর দলের জয়ের জন্য বাকি রানের ‘টেনশনে’ মাহমুদউল্লাহকে পড়ার তো কোনো কারণই ছিল না। শঙ্কা বলতে তখন এই যে, মাহমুদউল্লাহ বা বাকিরা না আউট হয়ে যায়!

 

৪৪তম ওভারে কোয়েটজিকে লং অফে দারুণ ছক্কায় ৯৬ হয়ে গেল, সে ওভারের সিঙ্গেল নিয়ে ৯৭-এ পৌঁছানোর পাশাপাশি স্ট্রাইকও ধরে রাখেন মাহমুদউল্লাহ। ৪৫তম ওভারে অপেক্ষার অবসান! রাবাদার প্রথম বলে দ্রুত দুই রান, দ্বিতীয় বলে সিঙ্গেল নিয়ে সেঞ্চুরি! বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহর তৃতীয় সেঞ্চুরি!

 

এরপর ইনিংসের নিজের চতুর্থ ছক্কাটি হাঁকানো মাহমুদউল্লাহ শেষ পর্যন্ত কোয়েটজিকে উড়িয়ে মারতে গিয়েই লং অফে ধরা পড়লেন, তাঁর অসাধারণ সেঞ্চুরিতে রাঙানো ইনিংস শেষ হলো কোয়েটজিসহ দক্ষিণ আফ্রিকানদেরই করতালিতে।

 

এরপর বাংলাদেশ অবশ্য আর বেশিক্ষণ টেকার কথা নয়, টেকেওনি। ৪৬তম ওভারের চতুর্থ বলে দলকে ২২৭ রানে রেখে মাহমুদউল্লাহ আউট হলেন, ছয় বল আর ৬ রান পর মোস্তাফিজের ২১ বলে ২ চারে ১১ রানের ইনিংসও শেষ হলো উইলিয়ামসের বলে মিলারের ক্যাচ হয়ে।

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button