Home তথ্যপ্রযুক্তি তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকগণ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অগ্রসৈনিক- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি...

তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকগণ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অগ্রসৈনিক- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী

13
0
SHARE

নিজস্ব প্রতিবেদক:

            তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকগণ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অগ্রসৈনিক উল্লেখ করে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, উদ্ভাবকদের সম্পৃক্ত করে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ও এন্টারপ্রেনিয়র সাপ্লাইচেইন তৈরির মাধ্যমে তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করতে আইসিটি বিভাগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

            প্রতিমন্ত্রী আজ বুধবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত “বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট (বিগ) ২০২১” উপলক্ষ্যে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

            প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্মকে উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবক হতে অনুপ্রাণিত ও সম্পৃক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অপরদিকে সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের জন্য একটি সম্ভাবনাময়ী গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা গেছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫৭টি দেশ থেকে ৭ হাজারের অধিক স্টার্টআপ/ইনোভেটররা ইনোভেশন গ্র্যান্ট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে বলে তিনি জানান।

            প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বিষয়ে বেসিক নলেজ বা মৌলিক ধারণা প্রদানের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সোনার মানুষে পরিণত করতে দেশে ৩০০টি স্কুল অভ্ ফিউচার প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। তরুণরা যেন এলাকাই বসেই আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে সে লক্ষ্যে দেশে ৬৪টি শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

            তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের বড় করে তুলতে দেশের প্রত্যেকটি হাইটেক পার্কে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ছয় মাসের ফ্রি কো-ওয়ার্কিং স্পেস দেয়া হচ্ছে। দেশজুড়ে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোক্তা ক্যাম্পাস গড়ে তুলছে স্টার্টআপ বাংলাদেশ। তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, লেখাপড়া করে যে গাড়ি ঘোড়ায় চড়ে সে এর বদলে এখন বলতে হয় উদ্যোক্তা হয় যে, গাড়ি-ঘোড়া বানায় সে।

            সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থ প্রতিম দেবের সভাপতিত্বে  অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, আইডিয়া প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রাকিব,  ই-ভ্যালি সিইও মোহাম্মাদ রাসেল, ওয়ালটন ডিজিটেক নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী লিয়াকত আলী ও স্টার্টআপ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিনা এফ জাবিন,।

            সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিগ-২০২১ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশসহ ১৪২টি দেশে ক্যাম্পেইন শেষে প্রাথমিক পর্যায়ে দেশ-বিদেশ থেকে ৭,০০০- এরও বেশি স্টার্টআপ আবেদন করে যেখান থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৫৬টি দেশ থেকে মোট ২৫৫টি প্রকল্প গৃহীত হয়। সেখান থেকে দুই দফায় বাছাই শেষে ইতোমধ্যে নির্বাচন করা হয়েছে সেরা ১০টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্টার্টআপ, যারা সরাসরি যাবে গ্র্যান্ড ফিনালেতে। অপরদিকে, দেশীয় পর্যায়ে স্টার্টআপ বাছাই হয় প্রাথমিকভাবে দুই দফায়। প্রথম পর্যায়ে ২৮ জন বিচারক ৫টি স্ক্রিনিং বোর্ডের মাধ্যমে বাছাই করেন ২৮৬টি দেশীয় স্টার্ট-আপ। ইতোমধ্যে অনলাইন বুটক্যাম্পটি আগামী ১২ জুন ২০২১ তারিখ থেকে শুরু হবে। বুট ক্যাম্পে গ্রুমিং শেষে এই ৬৫টি স্টার্ট-আপ নিয়েই শুরু হবে ১৩ পর্বের টিভি রিয়েলিটি শো যা জুলাই ২০২১ এর প্রথম সপ্তাহ থেকে একটি বেসরকারি টিভিতে প্রচার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বাছাইকৃত ৬৫ স্টার্টআপ থেকে ২৬টি স্টার্টআপ নির্বাচন করা হবে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে নির্বাচিত ১০টি এবং আইডিয়া প্রকল্পের আওতাভুক্ত পোর্টফলিও স্টার্ট-আপের সেরা আরও ১০টি স্টার্ট-আপ অর্থাৎ মোট ৪৬টি স্টার্ট-আপকে নিয়ে হবে “বিগ ২০২১ গ্র্যান্ড ফিনালে”। সবশেষে সেরা একটি স্টার্ট-আপ পাবে বিশেষ সম্মাননা এবং এক লাখ ইউএস ডলার সমমূল্যের অর্থ পুরস্কার। একই সাথে এই রিয়েলিটি শো’র মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়া ২৬টি র্স্টাট-আপ ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে নির্বাচিত ১০টি বিজয়ী র্স্টাট-আপ প্রত্যেকে পাবে আইডিয়া প্রকল্পের আওতায় ১০ লাখ টাকা করে অনুদান।

            সেপ্টেম্বর ২০২১-এ “বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট ২০২১” এর গালা ইভেন্টের আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।