Home তথ্যপ্রযুক্তি ডিজিটাল প্রযুক্তি ও শিশুর বিকাশে এর প্রভাব

ডিজিটাল প্রযুক্তি ও শিশুর বিকাশে এর প্রভাব

46
0
SHARE

ফারাহ ফাইয়াজ।।

৫ বছরের শিশু রামিসা। দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত তার বাবা-মা তাকে একটা ট্যাব দিয়েছে যাতে সে এটায় গেম খেলে, ভিডিও দেখে সময় কাটাতে পারে। কিন্তু কদিন পর দেখা গেলো ছোট রামিসা কেমন জানি সবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরছে।  ডাক্তার এর পরামর্শে তাকে স্কুলে ও ভর্তি করানো হলো কিন্তু সেখানে ও সে সহজে মিশতে পারছেনা। তার মেজাজ হয়ে যাচ্ছে খিটখিটে।

উপরের ঘটনাটি কাল্পনিক হলেও বর্তমানে এমন অসংখ্য উদাহরণ দেখা মিলছে।  প্রযুক্তির কল্যাণে স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, ট্যাব, কম্পিউটার সব কিছুর সাথে শিশুরা খুব ছোটবেলায় ই পরিচিত হচ্ছে। অনেক পেরেন্টস ই বাচ্চার শৈশব কালে তার সাথে এসব প্রযুক্তির পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।  এর ফলাফল খুব শুভ হচ্ছে সবসময় তা না।

আমরা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’র দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছি। দেখতে পাচ্ছি, এ প্রজন্মের ‘ডিজিটাল শিশু’দের করুণ পরিণতি। আমরা প্রায় সবাই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানি। কিন্তু, একজন  শিশুর উপরে এর প্রভাব কতোটুকু তা কি আমরা জানি?

বর্তমানে অধিকাংশ শিশুরা আগের মত বাইরে গিয়ে খেলার সুযোগ পায়না।  তাদের নিঃসঙ্গতায় সঙ্গী হচ্ছে স্মার্টফোন।  যার প্রভাব খুব ভালো হচ্ছে না। এসব শিশুর কল্পনা জগৎ কে যেমন নষ্ট করছে, তেমনি শিশু হয় যাচ্ছে অসামাজিক।  সে মিশতে পারছেনা। প্রতিবন্ধকতা অনুভব করছে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (WHO) এর মতে, তিন থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের প্রতিদিন এক ঘণ্টার বেশি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা উচিত না। কর্মজীবী মা-বাবা, বিশেষ করে যারা কাজ করার সময় বাচ্চাদের ব্যস্ত রাখার প্রয়োজনে বিভিন্ন ডিভাইস বাচ্চাদের হাতে দিয়ে থাকেন, তাদের পক্ষে এ নিয়ম মেনে চলা প্রায় অসম্ভব। যা প্রয়োজন তা হলো নিয়ম ও নিষেধাজ্ঞার ভারসাম্য।

শিশুদের মনজগতের কল্পনা শক্তি বিকাশের সুযোগ দিতে হবে।  তাদেরকে তাদের বয়সী অন্য শিশুদের সাথে মিশার,  খেলার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। বর্তমান শহুরে জীবনে খুব কম শিশুই পারছে এ সুযোগ গুলো।  শিশুদের স্মার্টফোন নয় তাদের দিতে হবে স্কেচবুক, রং-তুলি।যেন তারা কল্পনা কে ছবিতে ফুটিয়ে তুলতে পারে।  আর সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোয় তাদের নিয়ে কোথাও বেড়িয়ে আসা যায় এতে তারা নতুন কিছু দেখার ও শেখার সুযোগ পাবে।

লেখকঃ
ফারাহ ফাইয়াজ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
ডিপার্টমেন্ট – মার্কেটিং
সেশন – ১৭/১৮