Home এক্সক্লুসিভ তজুমদ্দিনে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

তজুমদ্দিনে সূর্যমুখীর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

89
0
SHARE

আরিফ হোসেন, তজুমদ্দিন ॥ সূর্যমুখী একটি তেলজাতীয় ফসল। এই তেল পুষ্ঠিগুনে অনন্য হওয়ায় ভোজ্যতেলের চাহিদা মেঠাতে ভোলার তজুমদ্দিনে সূর্যমুখীর চাষ হতে পারে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি। অনেক কৃষকেই নিজেদের তেলের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য এবছর সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ পাতার মাঝে যেন শোভা ছড়াচ্ছে হলুদ সূর্যমুখী ফুল। এক একটি ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যের আলো ছড়াচ্ছে। হলুদ ফুল আর সবুজ গাছে সে এক অপরূপ দৃশ্য। আর কিছুদিন পরেই ফসল ঘরে তুলবেন চাষিরা। আবহাওয়া অনূকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের আশাবাদী কৃষকের।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সূর্যমুখীর চাষ শুরু হয়। উর্বর মাঠি ও অল্প খরচেই সূর্যমুখী চাষ বেশ লাভজনক হওয়ায় এই চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে দিন দিন কৃষকদের মাঝে। এবছর প্রকল্পের আওতায় ১৫টি প্রদর্শনী ও প্রনোদনা কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার বিভিন্নস্থানে প্রায় ২০ একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়। এ অঞ্চলে সাধারণত হাইসান- ৩৩, আরবিএস-২৭৫ ও বারী সূর্যমুখী-২ তিনটি প্রজাতির সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে প্রতি একর জমি থেকে এক টনের বেশি ফসল উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আড়ালিয়া গ্রামের চাষি ভাষ্কর চন্দ্র মজুমদার বলেন, আমি গত বছর পরীক্ষামূলক ১২ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করি । এতে যে পরিমাণ ফসল পেয়েছি তাতে নিজেদের ব্যবহারের পাশাপাশি বিক্রিও করেছি। কম খরচে অন্য ফসলের চেয়ে ভালো ফলন হওয়ায় এবছর কৃষি অফিস থেকে সার ও বীজ সংগ্রহ করে ১শ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষাবাদ করি। জমি চেষ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনূকূলে থাকলে প্রতি ৮ শতাংশ জমি থেকে ৪ মন করে ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করি এতে ভালো লাভবান হওয়া যাবে।

ভাষ্কর চন্দ্র মজুমদারের দেখাদেখি একই এলাকার জকির হোসেন, শ্যামল চন্দ্র দাস, সংকর চন্দ্র দাসসহ অনেকেই এবছর সূর্যমুখীর চাষ করেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার অপূর্ব লাল সরকার বলেন, সরকার ভোজ্যতেলের উৎপাদন বৃদ্ধি করার লক্ষে নানান ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় তেল জাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পে বরিশালসহ ৭ জেলায় কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রনোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও সূর্যমুখীর বীজ বিতরণ করা হয়। এটি একটি সম্ভাবনাময় ফসল। এই ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের চাষিরা নিজেদের তেলের চাহিদা মেঠানোর পাশাপাশি বিক্রি করে বেশ লাভবান হতে পারে। আগামী বছরগুলোতে কৃষকেরা যাতে আরো বেশি পরিমান এ ফসল উৎপাদনে আগ্রহী এজন্য আমরা তাদের সকল ধরনের সহযোগিতা করবো।

 

 

image_print