তজুমদ্দিনে জেলে পুনর্বাসনের বিশেষ ভিজিএফের পরিবহনের টাকা নিয়ে লুকোচুরি

তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি ।।

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় জেলে পুনর্বাসনের বিশেষ ভিজিএফের পরিবহন (কেরিং) খরচের টাকা নিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে চলছে লুকোচুরি। হিসেব অনুযায়ী প্রতিবছর পরিবহন বাবৎ টাকা আসে ৫ লক্ষ ১৮ হাজার ৭ শত ৫০ টাকা। এদিকে পরিবহনের খরচের টাকা না পাওয়ার অজুহাতে প্রতি জেলেকে ২/৩ কেজি করে চাল কম দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, সরকার প্রতি বছরের মার্চ এপ্রিল দুই মাস নদীতে এবং ২০মে থেকে ২৩জুলাই ৬৫ দিন সমুদ্রে মাছধরা নিষিদ্ধ করেছেন। এর বিপরীতে জেলে পুনর্বাসনে বিশেষ ভিজিএফ-এ প্রতি জেলেকে ৪০ কেজি করে ৪ মাসে ১৬০ কেজি এবং সমুদ্রগামী প্রতি জেলেকে ৬৫ কেজি করে চাল বিতরণ করে আসছে। এসব চাল পরিবহনের (কেরিং) জন্য টন প্রতি বরাদ্দ আসে ২৫০ টাকা।

তজুমদ্দিনে নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ১৭৫১২ জন।

সমুদ্র গামী ৪৫০৬ জন। বরাদ্দ অনুযায়ী প্রতি বছর তজুমদ্দিনে চাল আসে বিশেষ ভিজিএফ ১৬৮৮ মেঃটন, সমুদ্রগামী ৩৮৭ মেঃটন যার মোট হিসাব ২০৭৫ মেঃটন। এসব চালের কেরিং খরচ বাবৎ হিসেব অনুযায়ী প্রতিবছর আসে ৫ লক্ষ ১৮ হাজার ৭ শত ৫০ টাকা।

সুত্র আরো জানায়, জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন দপ্তর থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয় হয়ে চেয়ারম্যান দের হাতে এই পরিবহনের খরচের টাকা পৌছানোর নিয়ম থাকলেও জেলে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এযাবৎ পরিবাহন বা কেরিং খরচ বাবৎ কোন টাকা না পাওয়ার কথা জানান চেয়ারম্যানরা। তবে তারা প্রসাশনিক ঝামেলা এড়াতে এসব বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাৎকার দিতে নারাজ।

কয়েকজন জেলে অভিযোগের সুরে জানান, চাল কম দেয়ার বিষয়ে কথা বলে লাঞ্চিত হতে হয়েছে। কেরিং খরচের অজুহাত দেখিয়ে ২/৩ কেজি করে চাল কম দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যেনো আর কম দেয়া না হয়।

অন্যান্য চেয়ারম্যানরা পরিবহনের টাকা না পাওয়ার কথা জানালেও চাচড়া ইউনিয়ন পরিষদের স্পষ্টবাদী চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, আমরা এসব নিয়ে কথা বললে সমস্যা হয়। আমরাতো বিচার চাইনি, আপনাদের সমস্যা কি?

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা মোঃ এমদাদুল্যাহ জানান, জেলেদের চাল এবং কেরিংয়ের বরাদ্দ আসে জেলা প্রশাসক দপ্তরে। চেয়ারম্যানদের কাছে বিতরণ করার জন্য টনপ্রতি ২৫০ টাকা হারে প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী অফিসারদের কাছে চেক পাঠানো হয়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে দুই বছর দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মরিয়ম বেগম আগে দুইটি চেক আসার কথা স্বীকার করে বলেন, কোনটা দেয়া হয়েছে, আর কোনটা দেয়া হয়নি এ মুহুর্তে মনে নেই। তবে কিছু কিছু চেয়ারম্যান বলছেন পরিবহনের টাকা এখনো পাননি।

এই বিভাগের আরো খবর