ডিমলায় সাংবাদিক নির্যাতনে পিআইও সহ দশ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডিমলায় সাংবাদিককে নির্যাতন ও লাঞ্চিত করায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও)সহ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দশ জনে বিরুদ্ধে ডিমলা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

 

গতকাল রবিবার(২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার গয়াবাড়ী ইউনিয়নের শিক্ষকপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সাংবাদিকের ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়। আহত সাংবাদিক শিরোমণি পত্রিকার নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি নুর মোহম্মাদ সুমন।

 

বিভিন্ন জনের মাধ্যমে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানতে পারলে তাকে উদ্ধার করে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

 

আহত সাংবাদিককের অভিযোগ, গয়াবাড়ী ইউনিয়নের শিক্ষকপাড়া এলাকায় সেতুর (গাটার ব্রীজ) সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ চলিতেছে। সেতুর নিচ হইতে নদী থেকে অবৈধভাবে সাব-ঠিকাদার নয়ন ইসলামের নেতৃত্বে চালক দ্বারা স্কেভেটর মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করিতেছে। আমি এ সংবাদ জানিয়া ২৬-০৩-২০২৩ ইং তারিখে বিকেল ৫টা নির্মানাধীন ব্রীজের সংবাদ সংগ্রহের জন্য গেলে আমার মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ছবি ধারণ করিতে থাকিলে সায়েদ আলী, সামসুদ্দিন, নয়ন, মুনছুর আলী, মেজর, আইনুল হক,মিজানুর রহমান, উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা মেজবাহুর রহমান আটক করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালগিালাজ করিতে থাকে। এ সময় ঠিকাদারের কেয়ার-টেকার গোলাম রব্বানী বলেন সাংবাদিককে মারি লাশ বানাও, হুকুম পাওয়া মাত্র অভিযুক্ত ব্যক্তিরা লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ডিমলা উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা মেজবাহুর রহমান ও সাব ঠিকাদার আবারও হুমকি প্রদান করেন আমি যেন আইনি সহায়তা বা সংবাদ পরিবেশনা না করি।যদি করি তাহলে হাত-পা ভাঙ্গিয়া দিবে বা জীবনে মারিয়া লাশ গুম করিবে বা যে কোনো ধরণের অঘটন ঘটাইয়া অপূরনীয় ক্ষতিসাধন করিতে পারে।

 

এঘটনায় ঠিকাদারের কেয়ার-টেকার গোলাম রব্বানী কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমাদের ইউএনও,পিআইও অনুমোদন দিছে আমরা বালু তুলতেছি। আমরা স্কেভেটর দিয়ে বালু তুলে রাস্তার(সংযোগ সড়ক) কাজ করতেছি এমন সময় উনি এসে ছবি তুলে। বাধা প্রদান করলে তিনি তবুও ছবি তুলেন। এজন্য আমাদের সাথে ওনার হাতাহাতি হয়েছে। আপনারা এসেছে ওকে নিয়ে যান।

 

এবিষয়ে ডিমলা উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা মেজবাহুর রহমান মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন, চাঁদা চাইতে গেলে তো মাইর খাবেই এটাই স্বাভাবিক।

 

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লাইছুর রহমান জানান, সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এই বিভাগের আরো খবর