জ্বলে উঠল ওপেনিং হারল বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক:

সমীকরণটা এমন, জিততে ভারতের দরকার ২ রান।

সেঞ্চুরি করতে বিরাট কোহলির চাই ৩ রান।

ৎনাসুম আহমেদের ফুলটস বলকে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মেরে তুলে নেন বিশ্বকাপের চলতি আসরে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি। ৪৮তম সেঞ্চুরি তুলে অপরাজিত থাকেন ১০৩ রানে। কোহলির সেঞ্চুরির ম্যাচে বাংলাদেশ শিবিরের শুরুতে ছিল উচ্ছ্বাস। শেষে হতাশা। পুণের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে ভারতের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ম্যাচে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের চিত্র এটি। ভারতের বিরুদ্ধে গতকালের ম্যাচটি ছিল মহাগুরুত্বপূর্ণ। সেমিফাইনালে খেলতে হারাতেই হবে স্বাগতিকদের।

এমন সমীকরণের ম্যাচ শুরুর আগে বড় ধাক্কা লাগে টাইগারদের। যে ধাক্কায় টালমাটাল হওয়ার কথা, হয়েছেও। কুঁচকির টানে রোহিত শর্মার ভারতের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সাকিবকে ছাড়া খেলতে নামে বাংলাদেশ পরিবর্তিত একাদশ নিয়ে। কিন্তু দলের পারফরম্যান্সে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং হারের বৃত্তেই আটকে গেছে। ভাঙতে পারছে না কোনোভাবে।

সাম্প্রতিক সমীকরণ কোনো কাজেই লাগেনি টাইগারদের। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের পর স্বাগতিক ভারতের কাছে ৭ উইকেটে হারের তিক্ত স্বাদ নিয়ে নাজমুল হোসেন, লিটন দাস, তানজিদ তামিমরা উড়ে যাচ্ছেন মুম্বাই। বিশ্বকাপে ২০০৭ সালে জয়ের পরের চার আসরেই ভারতের কাছে হারল বাংলাদেশ। ২৪ অক্টোবর ভারতের ‘বাণিজ্য নগরী’ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড় স্টেডিয়ামে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। হারের পর সেমির স্বপ্ন টিকে আছে কাগজে-কলমে। এ জন্য পরের ৫ ম্যাচে টানা জিততে হবে।

সেমির আশা জিইয়ে রাখতে জিততেই হবে। সেই পথে খেলতে নেমে দারুণ সূচনা করেন দুই ওপেনার তানজিদ তামিম ও লিটন দাস। পুণের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে দারুণ ব্যাটিংয়ে দুই ওপেনার ১৪.৪ ওভারে ৯৩ রানের জুটি গড়েন। যা বিশ্বকাপে ওপেনিং জুটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

দুই ওপেনার আগের তিন ম্যাচের ব্যর্থতাকে কফিনচাপা দিয়ে রেকর্ডগড়া জুটি গড়েন। আগের ম্যাচ তিনটিতে ওপেনিং জুটিতে রান যথাক্রমে ১৯, ১৪ ও ০। গতকাল ভারতের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করেন দুজনই। তানজিদ ৪৩ বলে ৫১ রান করেন ৫ চার ৩ ছক্কায়। লিটন ৮২ বলে ৬৬ রান করেন ৭ চারে। বিশ্বকাপে ওপেনিং জুটিতে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে।

নর্দাম্পটনে ৬৯ রানের জুটি গড়েছিলেন মেহরাব হোসেন অপি ও শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ। ভারতের বিরুদ্ধে ওপেনিংয়ে সর্বোচ্চ ১২০ রানের জুটি ২০১৮ সালে দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে। লিটন ও মেহেদী মিরাজ করেছিলেন। গত দুই বছর ওপেনিং জুটি নিয়ে দারুণ খরায় ভুগছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত ৭টি জুটি খেলেছে ওপেনিংয়ে। গত দুই বছরে ওপেনিংয়ে সবচেয়ে বেশি ১০ বার জুটি গড়েছেন তামিম ইকবাল ও লিটন। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১০২ রানের অপরাজিত জুটি গড়েছিলেন দুজনে। এরপর সর্র্বোচ্চ ৯৩ রানের জুটি তানজিদ-লিটনের। দুই ওপেনারের দিনে দারুণ ব্যাটিং করেছেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও। ৪৬ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলার পথে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে হাজার রানের ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন মুশফিক। ৩৩ ম্যাচের ৩২ ইনিংসে তার রান ১০৩৪। সাকিব প্রথম টাইগার ক্রিকেটার হিসেবে হাজারি ক্লাবে নাম লেখান। ১২০১ রান করেছেন তিনি। মাহমুদুল্লাহ ৭ নম্বর পজিশনে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৩৬ বলে ৪৬ রান করেন।

পুণেতে যেখানে ৩০০, সাড়ে ৩০০ রান উঠছে প্রায় ম্যাচেই। সেখানে টার্গেট ২৫৭ রান, পাহাড় টপকানোর মতো কঠিন নয়। এই মাঠে ৩৫০ রান তাড়া করে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড রয়েছে রোহিত বাহিনীর। ওভারপ্রতি ৫.১৩ টার্গেটে স্বাগতিক দুই ওপেনার অধিনায়ক রোহিত ও শুভমান গিল ১২.৪ ওভারে ৮৪ রানের ভিত দেন। মহারাষ্ট্রের ছেলে রোহিত ৪০ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৪৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন হাসান মাহমুদের বাউন্সারে। এরপর বিরাট কোহলিকে নিয়ে গিল যোগ করেন ৪৪ রান। গিলকে ব্যক্তিগত ৫৩ রানে সাজঘরে ফেরান মেহেদী মিরাজ। দলীয় ১৭৮ রানে আউট হন শ্রেয়াস আইয়ার।

তবে দারুণ ছন্দময় ব্যাটিং করেছেন সাবেক অধিনায়ক কোহলি। সেঞ্চুরির ইনিংস খেলেন কোহলি। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৮৫, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অপরাজিত ৫৫ ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৬ রান করেন।

গতকাল অপরাজিত ছিলেন ১০৩ রানে। ৯৭ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৪টি ছক্কা।

:বা:প্র:

 

এই বিভাগের আরো খবর