রাজনীতি

জোড় জবরদস্তি করে ছাত্রলীগ নেতার থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ 

জবি প্রতিবেদকঃ 

রুমে বন্দি করে মারধর ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছাত্রলীগের এক নেতার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভুগী মোঃ মশিউর রহমান লিজন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এঘটনায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা করেছেন তিনি। ইব্রাহিম ফরাজি ছাড়াও মামলার নথিতে আরও ৫জনকে বিবাদী করা হয়েছে। এঘটনায় তবে ভুক্তভুগী ও একাধিক অভিযুক্ত বলছেন জবি ছাত্রলীগ ইব্রাহিম ফরাজির নির্দেশনায় এঘটনা ঘটেছে।

 

বুধবার (১৫ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে মামলাটি করেন মশিউর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে ওয়ারী থানার ওসিকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

বাদীপক্ষের আইনজীবী জহির কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ‘মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট আসামি ফরহাদ ব্যাপারী বাদীর কাছ থেকে ব্যবসার কথা বলে ৪ লাখ টাকা ধার নেন এবং ব্যবসায় লাভ হলে লভ্যাংশ দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিছু দিন পর বাদী আসামির কাছে টাকা চাইলে তিনি জানান, ব্যবসায় লোকসান হয়েছে এবং শিগগিরই টাকা ফেরত দেবেন। এরপর গত বছরের ৫ অক্টোবর পাওনা টাকা চাইলে বাদীকে প্রাণ নাশের হুমকি দেন ফরহাদ। ইব্রাহিম ফরাজি বাদীকে তাদের সমস্যার সমাধান করে দেবেন বলে জানান এবং তাকে দেখা করতে বলেন। ১৮ নভেম্বর ফরাজির কথা মতো তার ঠিকানায় পৌঁছালে আসামিরা তাকে রুমের ভেতর নিয়ে মারধর করেন। এর মধ্যে আসামি আরশাদ আকাশ পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাদীকে পিস্তল ঠেকিয়ে একটি আইফোন এবং ১১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন এবং তার হাতে পিস্তল দিয়ে ছবি তুলে তার বিরুদ্ধে মামলা দেবে বলে হুমকি দেয়। তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে আরো ২ লাখ টাকা দাবি করে এবং এসব বিষয়ে কাউকে কিছু জানলে মিথ্যা মামলা দিয়ে বাদীকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।’

 

এবিষয়ে ভুক্তভোগী লিজন বলেন, ‘ফরহাদ আমার থেকে প্রথম টেন্ডারে ৩ লাখ টাকা নেয়। পরে অন্য একটা টেন্ডারে তা ফেরত দেয়। টাকা লেনদেন হয়েছে আমাদের দুইজনের মধ্যে কিন্তু এখানে ইব্রাহীম ফরাজি এখানে এসে আমাকে জিম্মি করে টাকা নেয়ার কে?’

 

লিজনের বন্ধু ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শিবলী বলেন, ‘আমি লিজনের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়েছিলাম। এক পর্যায়ে একটা বাসার নিচে গেলে ইব্রাহিম ফরাজি লিজনকে সঙ্গে নিয়ে বাসার ভেতর ঢুকে যায় আর আমাকে পাঠিয়ে দেয় সে জায়গা থেকে। পরে আমি শুনেছি লিজনের সাথে এসব ঘটেছে।’

 

অভিযুক্ত ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘ও আমার থেকে আমার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছে। ভোগিজুগি করে পুলিশের ডিজির কথা বলে টাকাটা নিয়েছে, পরে টাকাও দেয় না কাজও দেয়নি। পরে কাজ অন্য পার্টি পেয়েছে। পরে আমি টাকা চাইলে ওরে আর পাই না। পরে আমার এক বন্ধুকে দিয়ে ওকে নিয়ে আসলাম ও তখন কথা দিলো একসপ্তাহের মধ্যে টাকাটা দিয়ে দিবে। যেহেতু সে জগন্নাথের তাই ওখানকার সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজি ভাইকে জানালাম। পরে ইব্রাহিম ভাইয়ের বাসায় ওকে নিয়ে বসালাম, ফরাজির ভাইয়ের সামনে আমাকে ৩লক্ষ টাকা দিলো।’

 

আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গ্রাম্য আদালত বলেতো একটা বিষয় আছে, আমি তার ইউনিট সভাপতি হিসেবে ফরাজি ভাইকে এটা জানিয়েছি। লিজন ছাড়াও ওখানে টুটুল ভাই ছিলো, রাহাত ছিলো, পাভেল, রাসেল ছিলো সবার সামনে টাকা দিছে ওকে জোরজবরদস্তি করা হয়নি। ৬ মাস ঘুড়িয়েছে ও আমাকে, পরে ওর সভাপতি ওকে বলে টাকাটা আমাকে পাইয়ে দিছে।’

 

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা আকাশ বলেন, ‘ওই ছেলে ফরহাদের কাছ থেকে টাকা নেয়, পরে ফরহাদ আমাকে বিষয়টা জানায়, পরে এটা ইব্রাহিমের কাছে এটা অভিযোগ দেওয়া হয়েছিলো, ইব্রাহিম এটা উঠায় দিছে। এটার সাথে আমি কোনভাবেই জড়িত না, আপনি ইব্রাহিমকে ফোন দেন। আমি শুধু ইব্রাহিমের কাছে ফরহাদকে পাঠিয়েছি। ইব্রাহিম এটা সমাধান করে দিছে। আমি একজন পুলিশ কর্মকর্তা হয়ো একাজ কিভাবে করবো।’

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জবি ছাত্রলীগ সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজি বলেন, ‘মামলা করার অধিকার সবার আছে। মামলা তদন্তের জন্য থানায় দেওয়া হয়েছে। আমি অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রমাণ না হলে মানহানীর মামলা হবে।’

 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ইউনিটের কেউ অপরাধ করলে আমাকেইতো জানাবে। আমি তাকে ডেকে বলেছি টাকা দিতে, তার চাচার সাথেও আমার কথা হয়েছে। পরে সে ৩ লক্ষ টাকা দিয়েছে, আরও ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ছিলো। মারধরের কোনো ঘটনায় ঘটেনি, বানোয়াট কথা তার। ও কোনো প্রমাণ দেখাতে পারবে আমি তাকে মেরেছি?’

 

এবিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button