Home জাতীয় বিমানবাহিনীর সদস্যদের সাহস ও মনোবল নিয়ে মাথা উঁচু করে বিশ্ব দরবারে চলার...

বিমানবাহিনীর সদস্যদের সাহস ও মনোবল নিয়ে মাথা উঁচু করে বিশ্ব দরবারে চলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রী

41
0
SHARE
  • বিমানবাহিনীর রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে বিমানবাহিনীর সদস্যদের সাহস ও মনোবল নিয়ে মাথা উঁচু করে বিশ্ব দরবারে চলার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সম্প্রতি লালমনিরহাটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ্যাভিয়েশন এ্যান্ড এ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিমান চলাচল, বিমান নির্মাণ, গবেষণা, মহাকাশ বিজ্ঞান চর্চা হবে। যার মাধ্যমে আমি আশা করিÑ হয়ত একদিন আমরা এই বাংলাদেশে যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার তৈরিও করতে পারব, ইনশাল্লাহ! আর মহাকাশ বিজ্ঞান চর্চা করে হয়ত একদিন আমরা মহাকাশেও পৌঁছে যেতে পারব, সেই প্রচেষ্টাও আমাদের থাকবে।

রবিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিমানবাহিনী আয়োজিত বিমানবাহিনী একাডেমি, যশোরে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ (শীতকালীন)-২০২০ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশকে আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কাজেই আমাদের বিমানবাহিনীর প্রতিটি সদস্য এবং বিশেষ করে নবীন ক্যাডেট যারা, তাদের সবাইকে আমি বলব- আমরা যুদ্ধ করে বিজয় অর্জনকারী একটি দেশ ও জাতি। সে কথা মনে রেখেই বুকে সাহস নিয়ে মাথা উঁচু করে বিশে^র দরবারে চলতে হবে। আর নিজেদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে।

উন্নত বিশ্বের বাহিনীগুলোর সমপর্যায়ে নিতে দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে আধুনিক সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তি সংযোজন করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে অংশ নেই। সেখানে বিভিন্ন দেশেরও সদস্যরা আসেন। বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী তাদের সঙ্গে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে। কোনদিক থেকে বাংলাদেশ যেন কোন কিছুতেই পিছিয়ে না থাকে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের যা যা করা দরকার- আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, আমরা সেটা করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বিমানবাহিনীর মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট উপভোগ করেন। এসময় তাঁকে মনোজ্ঞ কুচকওয়াজের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ৭৭তম বাফা কোর্স এবং ডিরেক্ট এন্ট্রি-২০২০ কোর্স সম্পন্নকারীদের মাঝে ফ্লাইং ব্যাজ, ট্রফি এবং অন্যান্য পুরস্কার বিতরণ করেন। স্কোয়াড্রন জুনিয়র অফিসার শাকিল আহমেদ শ্রেষ্ঠ চৌকস ক্যাডেট হিসেবে অনুষ্ঠানে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন।

অনুষ্ঠানে কুচকাওয়াজ এবং ফ্লাইপাস্টের জন্য প্রধানমন্ত্রী সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে কুচকাওয়াজে নারী সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, এই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজে মহিলা ক্যাডেটদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত। কিছুদিন আগেই মহিলা বিমান সেনাদের প্রথম দলটি তাদের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেছে। বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপ নারীর অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বিমানবাহিনী একাডেমির কমান্ড্যান্টসহ যেসব প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রচেষ্টায় আজকের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ সফলভাবে সম্পন্ন হলো, তাদের সবাইকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফোর্সেস গোল-২০৩০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিমানবাহিনীকে উন্নত ও আধুনিকায়নে ভবিষ্যতে আরও আধুনিক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিমানবাহিনীতে শীঘ্রই যুক্ত হবে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিকল সিস্টেম, মোবাইল গ্যাপ ফিলার র‌্যাডার এবং সর্বাধুনিক এয়ার ডিফেন্স র‌্যাডার। জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন মেয়াদে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে তাঁর সরকার গৃহীত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে তাঁর সরকার বিমানবাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় আধুনিক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিমান, হেলিকপ্টার, র‌্যাডার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র এবং মুখ্য যন্ত্রপাতি সংযোজন করেছে। বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যাধুনিক পাঁচটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমান ক্রয়ের জন্য চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে, যার তিনটি বিমান ইতোমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে। বৈমানিকদের উন্নততর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে আরও ৭টি অত্যাধুনিক কে-৮ ডব্লিউ জেট ট্রেইনার বিমান সংযোজন করা হয়েছে এবং অচিরেই যুক্ত হতে যাচ্ছে পিটি-৬ সিমুলেটর। তিনি বলেন, এখন হয়ত কোভিড-১৯ এর কারণে আমরা বেশি অর্থ ব্যয় করতে পারছি না। তবে, আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে বিমানবাহিনীকে আরও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার।

‘মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বহু আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন’ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান পাসিং আউট ক্যাডেটদের উদ্দেশে বলেন, এদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, দেশের মানুষের কল্যাণ করা এবং সার্বিক উন্নতি করাটাই আমাদের লক্ষ্য। কাজেই আমাদের বিমানবাহিনীর প্রতিটি সদস্য এবং বিশেষ করে নবীন ক্যাডেট যারা, তাদের সবাইকে আমি বলব- আমরা যুদ্ধ করে বিজয় অর্জনকারী একটি দেশ ও জাতি। সে কথা মনে রেখেই বুকে সাহস নিয়ে মাথা উঁচু করে বিশে^র দরবারে চলতে হবে। আর নিজেদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে।

এ সময় বিশ^ শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সশস্ত্র বাহিনীর সাফল্যজনক অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন বাহিনী যারা আসেন তাদের সঙ্গে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে। কোন কিছুতেই বাংলাদেশ যেন পিছিয়ে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই যে ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দরকার, আমরা তা করে যাচ্ছি। তাই আমি ক্যাডেটদের বলব, বিমানবাহিনীর অনন্য প্রশিক্ষণের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তোমরা নিজেদের এমনভাবে গড়ে তুলবে যাতে আমাদের এই বাংলাদেশ তোমাদের মতো তরুণদের কাছে যেটা প্রত্যাশা করে সেটা তোমরা পূরণে সক্ষম হও।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা হেলিকপ্টার সিমুলেটর ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং এয়ারম্যান ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন করেছি। বর্তমানে শুধু শিক্ষা নয়, শিক্ষার সঙ্গে প্রযুক্তি ও শিল্পায়নের সংমিশ্রণে শিল্পনির্ভর জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশে বিমানবাহিনীর ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে রূপকল্প ২০৪১’র জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় বিমানবাহিনী আরও একধাপ এগিয়ে যাবে এবং এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানে সরকার সবসময় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পাশে থাকবে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনকালে একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে সে সময়েই জাতির পিতা তাঁর দূরদর্শী চিন্তাশক্তির আলোকে আধুনিক বিমানবাহিনী গড়ে তোলার যে প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন, তার দৃষ্টান্তও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতির পিতা সে লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে প্রণয়ন করেছিলেন জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি। ১৯৭৩ সালে সে সময়ের অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিগ-২১ যুদ্ধ বিমানসহ হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান এবং এয়ার ডিফেন্স র‌্যাডারসহ নতুন নতুন সরঞ্জামাদি বিমানবাহিনীতে সংযোজন করেন। এর মাধ্যমে এদেশে একটি আধুনিক বিমানবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়। একুশ বছর পর ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে এসেই তৎকালীন সবচেয়ে আধুনিক মিগ-২৯ যুদ্ধ বিমান ক্রয় করে।

করোনা মহামারীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন দুর্যোগে বিমানবাহিনীর সদস্যদের কার্যকর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ও জাতির প্রতি আপনাদের দায়বদ্ধতা সর্বমহলে প্রশংসিত। করোনা মহামারী মোকাবেলায় আপনাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাসমূহ অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আপনারা চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে নিয়ে এসেছেন বিপুল পরিমাণে চিকিৎসা সহায়ক সরঞ্জাম। শুধু তাই নয়, মানবিক সাহায্যসহ বিমানবাহিনী বাংলাদেশ সরকারের বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে পৌঁছে দিয়েছে মালদ্বীপ, লেবাননসহ বিভিন্ন দেশে। করোনা প্রাদুর্ভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া বাংলাদেশীদের দেশের মাটিতে ফিরিয়ে এনেছে পরম মমতায়।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় আমফানপরবর্তী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকার জন্য আমি এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে অভিনন্দন জানাই। তাছাড়া করোনা রোগীদের দ্রুত ঢাকায় নিয়ে এসে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা- সেটাও বিমান বাহিনী করেছে। তিনি বলেন, বিমানবাহিনীর মাধ্যমে বন বিভাগের সহায়তায় নিঝুম দ্বীপ ও ডোমার চর ও ভবিষ্যতে দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় উন্নতমানের গাছের বীজ বপনের মাধ্যমে যে সবুজ বিপ্লব সূচিত হতে যাচ্ছে, তা দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ১৯৯৬ সালে সরকারে আসার পরই বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে পাহাড়ী এলাকায় বীজ ছাড়ানোর যে কাজ আওয়ামী লীগ সরকার শুরু করে গিয়েছিল, তা অব্যাহত রাখায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি এ সময় হিমছড়িতে আটকে পড়া চার শিক্ষার্থীকে সফলভাবে উদ্ধার করায় বিমানবাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দুর্গম সেই এলাকায় হেলিকপ্টার নামানো সম্ভব না হলেও খুব দক্ষতার সঙ্গে বিমানবাহিনী সেই ছাত্রদের উদ্ধার করে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে শোনানো জাতির পিতার ভাষণের কথা তুলে ধরে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু) নবীন ক্যাডেটদের বলেছেন, যারা নবীন কর্মকর্তা হতে যাচ্ছেন অর্থাৎ প্রশিক্ষণের পর্যায় শেষ করে এখন দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তাদের দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমটা থাকতে হবে। আর সেই সঙ্গে আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, জাতির পিতার যে নির্দেশনা, যে কথাগুলো, যে বক্তব্যগুলো- সেটা সবসময় মনে রাখতে পারলে আমি মনে করি নিজেদেরকে জীবনে সততার সঙ্গে, নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে এবং দেশকেও অনেক কিছু দেবার সুযোগ পাবে।

প্রধানমন্ত্রী পাসিং আউট ক্যাডেটদের উদ্দেশে আরও বলেন, মানসম্মত ও কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে তোমাদের যে কর্মময় জীবন আজ শুরু হলো, তোমরা তাতে সফল হও- আমি এই কামনা করি। জাতির পিতার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে তোমরা সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মাতৃভূমি রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব পালনে যথাযথ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলেও আমি বিশ্বাস করি।

২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ হবে উন্নত দেশ জানিয়ে সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, তোমরাই (পাসিং আউট ক্যাডেট) আমার ২০৪১-এর সৈনিক। সেভাবে নিজেদের গড়ে তুলবে, দেশকে ভালবাসবে, মানুষকে ভালবাসবে। দেশ ও মানুষের প্রতি তোমাদের কর্তব্যবোধ, দায়িত্ববোধ থাকবে সেটাই আমরা চাই এবং জাতির পিতার সেই আদর্শ মেনে নিয়ে তোমরা এগিয়ে যাবে। তোমরা নিজেদের এমনভাবে গড়ে তুলবে যেন আমাদের এই বাংলাদেশ তোমাদের মতো তরুণদের কাছে যে প্রত্যাশা করে, সেটা তোমরা পূরণ করতে উপযুক্ত হয়ে গড়ে উঠবে।