Home জাতীয় ঈদুল আজহার নামাজ শেষে করোনা থেকে মুক্তির দোয়া

ঈদুল আজহার নামাজ শেষে করোনা থেকে মুক্তির দোয়া

36
0
SHARE

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনার পাশাপাশি করোনা মহামারি থেকে মুক্তি পেতে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে মোনাজাত করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেই দেশে এসেছে মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র উৎসব ঈদুল আজহা। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার ঈদের জামাত ঈদগাহের বদলে অনুষ্ঠিত হয়েছে মসজিদে মসজিদে।

বুধবার (২১ জুলাই) সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।  জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।

নামাজ শেষে মোনাজাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতদের জন্য দোয়া করা হয়। দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।  নামাজের আগে মসজিদে মাইক থেকে বারবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে জামাতে অংশ নিতে বলা হয়। আবহাওয়া অফিস বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে রাখলেও ঈদের সকালে তা বাগড়া দেয়নি ঢাকায়। নানা বয়সী মানুষ ঈদ জামাতে অংশ নিতে হাজির হন বায়তুল মোকাররমে। সবাইকে আর্চওয়ের ভেতর দিয়ে ঢুকতে হয়েছে মসজিদে।

মতিঝিল বিভাগের পুলিশের উপকমিশনার আব্দুল আহাদ বলেন, ‘পুরো এলাকায়  নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

প্রথম জামাতে যোগ দিতে সকাল সাড়ে ৬টা থেকেই বায়তুল মোকাররমে আসতে শুরু করে মানুষ। মসজিদের বাইরে ছিল নামাজে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন।  ঈদ জামাতে শিশু ও বৃদ্ধদের অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করা হলেও দেখা গেছে অনেকে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ঈদের নামাজে এসেছেন। প্রবীণদেরও বায়তুল মোকাররমে নামাজ পড়তে দেখা গেছে।

সবাই স্বাস্থ্যবিধির নিয়ম মানছেন কি না দেখতে মসজিদের প্রবেশ পথে পুলিশ ছিল।

বায়তুল মোকাররমে প্রথম জামাতে ঈদের নামাজ পড়েন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস।  নামাজ শেষে সবাইকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সবাই কোরবানির বর্জ্য পরিচ্ছন্ন কর্মীর হাতে দেবেন। অনেক পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োজিত।  সুতরাং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ হবে।’

বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টায় প্রথম জামাতের পর সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং ১০টা ৪৫ মিনিটে আরও চারটি জামাতের আয়োজন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

এছাড়া পড়া-মহল্লার সব মসজিদেই নিজেদের নির্ধারিত সময়ে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।  দেশে ঈদের প্রধান জামাত হয় ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সেই জামাতে নামাজ পড়েন।  কিন্তু গত তিনটি ঈদের মতো এবারও তা করা যায়নি মহামারির কারণে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসী ও সারাবিশ্বের মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।  পৃথক বাণীতে তারা মুসলিম উম্মাহর অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেছেন।

রাজারবাগে বিশেষ দোয়া

রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ মসজিদে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। বুধবার (২১ জুলাই)  সকালে নামাজ শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এবং বিশ্ববাসীর কল্যাণে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়ে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে দেশের অব্যাহত অগ্রযাত্রা, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করা হয়। এছাড়া, করোনা ভাইরাসের মহামারী থেকে বাংলাদেশের জনগণ তথা বিশ্বের সব মানুষকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ চাওয়া হয়।

পরে আইজিপি পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা এবং মুসল্লিদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। জামাতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এবং অন্যান্য মুসল্লিরা অংশ নেন।