Home প্রধান খবর জবি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু

জবি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু

16
0
SHARE

জবি প্রতিনিধিঃ

 

স্বামীর বাসায় বিষপানে অসুস্থ হওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। অঙ্কন বিশ্বাস নামের ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত ছিলেন। এ ঘটনায় রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানায় একটি পুলিশ ফাইল দায়ের করা হয়েছে।

 

রোববার (০৮ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিবির পরিচর্যায় থাকা অবস্থায় অঙ্কনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল নিশ্চিত করেছেন।

 

 

 

অঙ্কনের সহপাঠীদের অভিযোগ, ২৪ এপ্রিল রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে এ ছাত্রীকে মুমূর্ষু অবস্থায় রেখে পালিয়ে যান তার স্বামী। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১১-১২ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সভাপতি শাকিল আহমেদ।

 

অঙ্কন জবির ইংরেজি বিভাগের স্নাতকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম এবং ভালো বিতার্কিক ছিলেন। বিতর্কের সুবাদে শাকিলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। শাকিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি অঙ্কনকে এড়িয়ে চলতে থাকেন এবং ‘অন্য ধর্মের’ অজুহাতে তাদের বিয়েকে অস্বীকৃতি জানান।

 

ঘটনার দিন সকালে শাকিলের বাসায় যান অঙ্কন। সেখানে একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে শাকিল ও তার ছোট ভাই হিমেল অঙ্কনকে আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যান। তখন শাকিল কখনো ভাই, কখনো বন্ধুর পরিচয়ে ভর্তি করাতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভর্তি করাতে অস্বীকৃতি জানায়।পরবর্তীতে স্বামী পরিচয়ে তিনি অঙ্কনকে ভর্তি করান। হাসপাতাল থেকে অঙ্কনের বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু আব্দুল মুকিত চৌধুরী সানীকে ফোনে খবর দেয়া হয়।

 

অঙ্কনের বন্ধু সানী বলেন, ‘গত ২৪ এপ্রিল দুপুর দেড়টার দিকে আজগর আলী হাসপাতাল থেকে অঙ্কন অসুস্থ বলে একটা ফোন আসে। পরে সেখানে গিয়ে অঙ্কনকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পাই। ডাক্তাররা তার শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় হাসপাতালে শাকিল ও তার ভাই হিমেলকে দেখতে পাই। শাকিল ও তার ভাই, বন্ধু পরিচয়ে ভর্তি করাতে চাইলে প্রথমে ভর্তি করায়নি কর্তৃপক্ষ। পরে স্বামী পরিচয়ে ভর্তি করায়।’

 

সানী আরও বলেন, ‘শাকিল প্রথমে ঘটনা বলতে চাইছিলেন না। পরে বলেন, বাসা থেকে হয়তো কিছু খেয়ে তাঁর বাসায় এসেছেন অঙ্কন। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে যান। পরে সানী সেখান থেকে অঙ্কনের পরিবারকে জানান।’

 

অঙ্কন আজগর আলী হাসপাতালে বিষক্রিয়ায় হার্ট অ্যাটাক ও পরে ব্রেন স্ট্রোক করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ০১ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

 

আজগর আলী হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, স্বামী পরিচয়ে অঙ্কনকে হাসপাতালে ভর্তি করান শাকিল। পরে অঙ্কনের বাবা তপন বিশ্বাস তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করেন। তবে এঘটনায় অঙ্কনের পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

শাকিল অঙ্কনকে হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে পলাতক। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. মোস্তফা কামালের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বক্তব্য দেবেন বলে জানান।

 

রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ আল মামুন বলেন, ‘এ ঘটনায় একটা পুলিশ ফাইল হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে যদি কোনো অভিযোগ দেওয়া হয় তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

 

উল্লেখ্য, গত ২২ মার্চ অঙ্কন ও শাকিল দুই লক্ষ টাকা দেনমোহরে আদালতে বিবাহ সম্পন্ন করেন।

image_print