চাকুরী জাতীয়করণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন 

শীবু শীল, মৌলভীবাজার:

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারী চাকুরী জাতীয়করণের দাবিতে সংহতি বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা শেষে একটি র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালিটি কলেজ রোড থেকে শুরু করে চৌমুহনী চত্বরে এসে শেষ হয়। সভায় শিক্ষকরা তাদের দাবিদাওয়া আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।

 

গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে শ্রীমঙ্গল কলেজ রোডস্থ শাহ্ মোস্তফা জে.আই উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত সভার সভাপতিত্ব করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রধান শিক্ষক ঝলক কান্তি চক্রবর্তী। শ্রীমঙ্গল উপজেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক জ্যোতিষ মজুমদার, সিনিয়র সহ-সভাপতি বিপ্লব কান্তি দাশ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি প্রধান শিক্ষক বিমান বর্ধন, হুগলিয়া হাজী মনছব উল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল হাসান, ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী, শ্রীমঙ্গল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহকারী শিক্ষক মো. আখতার হোসেন, সহ-সভাপতি মো. ফারুক আহমেদ, সাতগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুপ দত্ত, কাকিয়া বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নোমান আহমেদ সিদ্দিকী প্রমূখ।

 

সভায় ঝলক কান্তি চক্রবর্তী বক্তব্যে বলেন, ‘আজ সাধারণ বেসরকারি শিক্ষকরা সভায় বসেছিলেন। বাংলাদেশে যে বিটিএ সংগঠন রয়েছে, তাঁদের সাথে সম্মতি প্রকাশ করতে চায়। তারা তাঁদের দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীর চাকুরী জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। আন্দোলন চালিয়ে যাবার শপথ নিয়েছেন। আমরা আগামীকাল এবং আগামী পরশু দাবীদাওয়া আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। তার পাশাপাশি আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেহেতু আমরা আমাদের বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা রয়েছে, তারা আমাদের সন্তানের মতো। তাই বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের আমরা সুবিধামতো প্রথম বা দুই ঘন্টা তাদের আমরা ক্লাস করাবো। তারপর আমরা আমাদের যে কর্মসূচি রয়েছে, সে কর্মসূচিতে সময় ব্যয় করবো।’

 

সভায় বক্তারা বলেন, ‘যাঁরা ঢাকা আন্দোলন কর্মসূচীতে যাওয়ার তারা যাবে আর যারা যাবেনা তার আমরা সবাই একসাথে একত্রিত হয়ে শ্রীমঙ্গল চৌমুহনী চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবো। আমাদের এমন বহু শিক্ষক রয়েছেন যাঁরা বেসরকারী বিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় সরকারি কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকুরী পাওয়া মাত্র, তারা বেসরকারী বিদ্যালয় ছেড়ে সরকারী বিদ্যালয়ে চলে যান। তাহলে আমাদের বেসরকারী বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা কী হবে। এসময় বক্তারা চলমান আন্দোলনে ঢাকা যাওয়ার কথা জানান।’

 

সভায় আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে ১১ সদস্য বিশিষ্ট স্টিয়ারিং কমিটি গঠন ও ঘোষনা করা হয়। যে কমিটি আন্দোলন কর্মসূচিতে এবং বেসরকারী শিক্ষকদের চাকুরী জাতীয়করণে কাজ করবে।

এই বিভাগের আরো খবর