Home ভোলা চরফ্যাশন চরফ্যাশনে স্কুল ভবনে আগুন, বের হতে গিয়ে ৩০ শিক্ষার্থী আহত

চরফ্যাশনে স্কুল ভবনে আগুন, বের হতে গিয়ে ৩০ শিক্ষার্থী আহত

13
0
SHARE

আতংকে শিশু শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা, চরফ্যাশন॥ ভোলার চরফ্যাশনের মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে জরাজীর্ণ বিদ্যুতের লাইন থেকে সংযোগ মিটারে আগুনের সুত্রপাত শুরু হলে ভয়ে আতংকিত হয়ে পরে বিদ্যালয়ের ১২শ শিশু শিক্ষার্থী। তাৎক্ষনিক আগুন নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও তাড়াহুড়া করে বিদ্যালয় থেকে বের হতে গিয়ে পড়ে আহত হন প্রায় ৩০জন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীর স্বজনরা আহত শিশু শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন বলে জানাগেছে।

 

জানাগেছে,সকালে শিশু শিক্ষার্থীদের স্কুলে দিয়ে ক্লাস শেষে হওয়ার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন অভিবাবকরা। হঠাৎ দুপুর ১২ টাকার সময় সহকারী শিক্ষকদের কক্ষের সামনে পুরাতন জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ মিটার থেকে সর্টসার্কিটে চারদিকে আগুন লেগে যায়। আগুনের সুত্রপাত দেখে সহকারী শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ফেলে রেখেই রেব হয়ে যান। ওই সময় অপেক্ষামান শিশু শিক্ষার্থীদের আতংকিত অভিবাবকরা চিৎকার দিলে স্থানীয়রা ও অভিবাবকরা বিদ্যালয়ে দোতলা ভবনের গ্রিল ভেঙ্গে শিশু শিক্ষার্থীদের বের করেন। এসময় আগুন আতংকে বিদ্যালয় থেকে বের হতে গিয়ে অনন্ত ৩০ শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে নাপিশা, মুনতাহা, প্রমুক্তা সরকারের নামের তিন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানাগেছে।

 

শিশু শিক্ষার্থী মাসিয়াসহ অপর শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাস চলাকালীন সময়ে হঠাৎ শুনতে পাই স্কুল ভবনে আগুন লেগেছে। এমন খবর শুনে ক্লাস থেকে বের হতে গেলে শিক্ষকরা বাধা দেন। এবং কিছু হয়নি বলে ক্লাস রুমের দড়জা বন্ধ করে রাখেন। কিছুক্ষন পরে চারদিক ধুয়ায় আচ্ছন্ন ও অন্ধকার হয়ে পড়লে এক শিক্ষার্থীর অভিবাবক এসে দড়জা খুলে আমাদেরকে বাহিরে নিয়ে আসেন।

 

অভিবাবক তাছলিমা বেগম জানান, বদ্যালয় ভবনে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন খুবই জরাজীর্ণ। শিক্ষরা বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয় ভবনে গেইট বন্ধ থাকায় আগুনের সুত্রপাতের পরপরই সব শিক্ষার্থীরা আতংক হয়ে যায়। কিন্তু বিদ্যালয়ে গেইট তালাবদ্ধ থাকায় সঠিক সময় বের হতে পারেনি। এতে আগুন আতংকে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়ে পরেছে। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় মানুষ ও অপর পুরুষ অভিবাকরা বিদ্যালয়ে দোতালার গ্রীল ভেঙ্গে মই দিয়ে কিছু শিক্ষার্থীকে বাহিরে আনতে সক্ষম হন। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ম্যাজিনং কমিটির এমন অব্যবস্থাপনার কারনেই বিদ্যালয় ভবনে এমন দূর্ঘটনা ঘটেছে। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে ১২শ শিশু শিক্ষার্থী।

 

মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন জানান, বিদ্যুৎ সর্টসার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে। তবে তৎখানিকই আগুন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কোন শিক্ষার্থীর কোন ক্ষতি হয়নি।

 

স্কুল ভবনে বিদ্যুতের জরাজীর্ণ লাইন মেরামত প্রসঙ্গ তিনি আরো বলেন, ভবন নির্মানের সময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করেছেন। পরে আর কোন বরাদ্দ হয়নি তাই মেরামত করা সম্ভব হয়নি।

 

চরফ্যাশন ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার আসাদুজ্জামান জানান, জরাজীর্ণ বিদ্যুতের লাইনের কারনেই আগুনের সুত্রপাত হয়েছে। তবে তৎক্ষনিক বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ করে দেয়ায় বড় রকমের দূর্ঘটান থেকে রক্ষা পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।

 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. অহিদুল ইসলাম জানান, আমি ছুটিতে আছি।ঘটনাটি কোন শিক্ষক আমাকে জানায়নি। তবে প্রধান শিক্ষকদের উদাসিনতার কারনেই এমন ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল নোমান জানান,খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে প্রতিটি বিদ্যালয়ে বরাদ্দ হয়। ওই বরাদ্দ থেকে বিদ্যুৎ লাইন সংস্কার করা দরকার ছিলো। কিন্তু কেন বিদ্যুৎ লাইন সংস্কার করা হয়নি তার খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

 

image_print