Home খেলার খবর ১৫৫ রানের বিশাল ব্যবধানে বাংলাদেশের জয়

১৫৫ রানের বিশাল ব্যবধানে বাংলাদেশের জয়

52
0
SHARE

শুরুটা ভালভাবে করতে চেয়েছিলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তিনি করলেন বাংলাদেশী হিসেবে ওয়ানডেতে সর্বাধিক ১৯ বার শূন্যতে আউট হওয়ার রেকর্ড। তবে দলগতভাবে জিম্বাবুইয়েতে ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে বাংলাদেশের। ১৫৫ রানের বিশাল ব্যবধানে জিম্বাবুইয়েকে হারিয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা। এটি বিদেশের মাটিতে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয় বাংলাদেশের। ২০২৩ বিশ্বকাপ ওয়ানডে সুপার লীগে এ জয়ে আরও ১০ পয়েন্টে বাংলাদেশের মোট পয়েন্ট দাঁড়াল ১০ ম্যাচে ৬০। ৮০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা ইংল্যান্ডের পরেই বাংলাদেশ। শুক্রবার হারারে স্পোর্টস ক্লাবে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। পরে লিটন কুমার দাসের ক্যারিয়ারে চতুর্থ সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৭৬ রানের বড় সংগ্রহ পায় সফরকারীরা। হারারেতে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। লিটন ১১৪ বলে ১০২ রান করেন। এরপর সাকিব আল হাসানের ঘূর্ণিতে দিশেহারা জিম্বাবুইয়ে ২৮.৫ ওভারে ১২১ রানে গুটিয়ে যায়। ৫ উইকেট নিয়ে সাকিব বাংলাদেশের পক্ষে সর্বাধিক ২৭৪ উইকেটের মালিক হয়ে যান। ২৬৯ উইকেট নিয়ে এখন দ্বিতীয় মাশরাফি বিন মর্তুজা।

ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে বেশ লুকোচুরি করেছে স্বাগতিক জিম্বাবুইয়ে। প্রথম ওয়ানডে শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দল ঘোষণা করে তারা। তবে এতে পরিকল্লনায় কোন সমস্যা হয়নি বাংলাদেশের। ডিওন মায়ার্স ও তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে ওয়ানডে অভিষেক করিয়ে একাদশ সাজায় স্বাগতিকরা। আর বাংলাদেশ দলকে খেলতে হয় পায়ের সমস্যায় পড়া বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে। হাঁটুর ইনজুরি পুরোপুরি কাটিয়ে না উঠলেও খেলতে নামেন অধিনায়ক তামিম। কিন্তু তিনি ৭ বলে ০ ও সাকিব ২৫ বলে ৩ চারে ১৯ রান করে বেøসিং মুজারাবানির শিকার হন। তিন ফরমেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩৪ বার শূন্যতে আউট হয়ে তিনি মাশরাফি বিন মর্তুজাকে (৩৩ বার) ও ওয়ানডেতে ১৯তম শূন্যে তিনি হাবিবুল বাশারকে (১৮ শূন্য) ছাড়িয়ে অস্বস্তিকর রেকর্ড গড়েন। টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশকে আরও বিপদে পড়তে হয় যখন মোহাম্মদ মিঠুন ১৯ বলে ১৯ ও মোসাদ্দেক হোসেন ১৫ বলে ৫ রানে বিদায় নেন। দলীয় ৭৪ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর পঞ্চম উইকেটে মাত্র ১০৩ বলে ৯৩ রানের জুটি গড়েন লিটন-মাহমুদুল্লাহ। চিরাচরিত মারকুটে স্বভাব ত্যাগ করে এদিন সিঙ্গেলস-ডাবলসে মনোযোগী লিটন ৭৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। শুরুর দিকে হারারের উইকেট এমনই কঠিন থাকে ব্যাটসম্যানদের জন্য। আর তাই পাওয়ার প্লে’র প্রথম ১০ ওভারে ২ উইকেট মাত্র ৩৮ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ।

৫২ বলে ১ ছয়ে ৩৩ রানে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদুল্লাহ। এরপর লিটন-আফিফ হোসেন ধ্রæব জুটি দ্রæত রান তুলতে শুরু করেন। সর্বশেষ ৮ ওয়ানডেতে ১২.৬২৫ গড়ে ১০১ রান করা ব্যর্থ লিটন ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতক পান মাত্র ১১০ বলে। তবে এরপরই আউট হয়ে যান ১১৪ বলে ৮ চারে ১০২ রান করে। তবে আফিফ ৩৫ বলে ১ চার, ২ ছয়ে ৪৫ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ২৫ বলে ১ চার, ১ ছয়ে ২৬ রান করলে শেষদিকে বাংলাদেশ ৫ ওভারে ৪৮ রান তোলে। ফলে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৭৬ রানের রেকর্ড সংগ্রহ পায় টাইগাররা। হারারেতে এর আগে দু’দলের লড়াইয়ে সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল ২০০৭ সালে বাংলাদেশের ৯ উইকেটে ২৬০। লুক জংওয়ে ৩টি এবং ২টি করে মুজারাবানি ও রিচার্ড এনগ্রাভা উইকেট নেন। বিশাল লক্ষ্য ছোঁয়ার জন্য ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই জিম্বাবুইয়ে বিপর্যস্ত হয়। ব্যাটিংয়ের সময় রান নিতে গিয়ে পিছলে পড়ে আঘাত পাওয়া লিটনের পরিবর্তে উইকেটরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনে নামেন নুরুল হাসান সোহান। আর জিম্বাবুইয়ের টিমাইসেন মারুমা ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি ফিল্ডিংয়ে আহত হওয়ায়। দ্বিতীয় ওভারেই অভিষিক্ত মারুমানিকে শূন্যতে বোল্ড করে দেন ডানহাতি পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। পঞ্চম ওভারে ওয়েসলি মাধভেরেকে বোল্ড করেন আরেক ডানহাতি তাসকিন আহমেদ।

১৩ রানেই ২ উইকেট হারানোর পর আর সেখান থকে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি জিম্বাবুইয়ে। ১১তম ওভারে আরেক অভিষিক্ত মায়ার্সকে (১৮) শিকার করেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। এরপর শুধু সাকিবের গল্প। তিনি একাই ধসিয়ে দেন জিম্বাবুইয়ের ইনিংস। ৩১ বলে ৩ চারে অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর ২৪ রান করে তার প্রথম শিকার হন। এর ফলে ওয়ানডে ইতিহাসে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বাধিক ২৭০ উইকেটের মালিক হয়ে যান সাকিব। এরপর তিনি তুলে নিয়েছেন রায়ান বার্ল (৬), মুজারাবানি (২), রেজিস চাকাবভা ও এনগ্রাভাকে (০)। ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো ওয়ানডেতে ৫ উইকেট তুলে নেন সাকিব ৯.৫ ওভারে ৩ মেডেনসহ মাত্র ৩০ রান দিয়ে। এটি তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেরা বোলিং। তার এই বিধ্বংসী বোলিংয়ে শেষ ১৬ রানেই ৫ উইকেট হারায় জিম্বাবুইয়ে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাউদাম্পটনে গত বিশ্বকাপে ২৯ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব। আহত মারুমা আর ব্যাট করতে পারেননি। ফলে ২৮.৫ ওভারে ৯ উইকেট হারালেও ১২১ রানেই শেষ হয় জিম্বাবুইয়ের ইনিংস। শুধু চাকাবভা লড়াই করেছেন এবং ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতক হাঁকিয়ে ৫১ বলে ৪ চার, ২ ছক্কায় ৫৪ রান করেন। ১৫৫ রানের জয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। এর আগে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয় ছিল ২০১৮ সালের এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুবাইয়ে ১৩৭ রানে। এবার বড় ব্যবধানে জয়ের নতুন রেকর্ড গড়ল টাইগাররা।

স্কোর ॥ বাংলাদেশ ইনিংস- ২৭৬/৯; ৫০ ওভার (লিটন ১০২, আফিফ ৪৫, মাহমুদুল্লাহ ৩৩, মিরাজ ২৬; জংওয়ে ৩/৫১, মুজারাবানি ২/৪৭, এনগ্রাভা ২/৬১)।

জিম্বাবুইয়ে ইনিংস- ১২১/১০; ২৮.৫ ওভার (চাকাবভা ৫৪, টেইলর ২৪, মায়ার্স ১৮; সাকিব ৫/৩০)।

ফল ॥ বাংলাদেশ ১৫৫ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা ॥ লিটন কুমার দাস (বাংলাদেশ)।

সিরিজ ॥ ৩ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।

প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন ॥ বাসসর জানায়, হারারেতে বাংলাদেশ-জিম্বাবুইয়ের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ অভিনন্দন বার্তার কথা জানান।