Home খেলার খবর বিশ্বকাপে ম্যাচসেরা চার টাইগার

বিশ্বকাপে ম্যাচসেরা চার টাইগার

27
0
SHARE

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট প্রতিযোগিতা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে আগামী ১৭ অক্টোবর। উদ্বোধনী দিনে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বিশ্বকাপের মূল পর্বে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তাই ওমানে খেলতে হবে বাছাই। আর এ বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচে ১৭ অক্টোবর স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে মুশফিক-লিটনরা। দ্বিতীয় ম্যাচে ১৯ অক্টোবর ওমানের বিপক্ষে খেলবেন তারা। বাছাইয়ের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনির মুখোমুখি হবে টাইগাররা।

বাংলাদেশের গ্রুপ থেকে চারটি দেশের মধ্যে দুটি দেশ সুপার টুয়েলভে খেলবে। বাংলাদেশের সুপার টুয়েলভে খেলার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কারণ যে তিন দেশের বিপক্ষে খেলবে, তারা সবাই বাংলাদেশের চেয়ে শক্তির বিচারে পিছিয়ে আছে।

২০০৭ সালে প্রথমবার দক্ষিণ আফ্রিকায় হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এবার ওমানে ও আরব আমিরাতে হতে যাচ্ছে ২০ ওভারের খেলার সপ্তম আসর। বাংলাদেশ ২০০৭ সাল থেকে শুরু করে ২০১৬ সাল পর্যন্ত হওয়া ছয়টি বিশ্বকাপের সবগুলোতে খেলেছে। আর এ ছয়টি বিশ্বকাপে টাইগাররা খেলেছে মোট ২৫টি ম্যাচ। যদিও খেলার কথা ছিল ২৬টি ম্যাচ। কিন্তু ২০১৬ সালে বৃষ্টির কারণে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

বাংলাদেশ যে ২৫টি ম্যাচ খেলেছে তার মধ্যে জয় পেয়েছে ৫টি ম্যাচে। আর হেরেছে ২০টি ম্যাচে। আবার বাংলাদেশ যে পাঁচটি ম্যাচে জয় পেয়েছে তার মধ্যে চারটি হলো বিশ্বকাপের বাছাইয়ে। আর একটি মাত্র জয় এসেছে মূল বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপের মূল পর্বে বাংলাদেশ হারাতে সমর্থ হয়েছে একমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। সেটি ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের একদম নিজেদের প্রথম ম্যাচে। যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বাংলাদেশ হারিয়েছে, সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ এরপর দুইবার শিরোপা জয় করেছে।

অপরদিকে বাংলাদেশের সাফল্যের হার প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। এদিকে বাংলাদেশ যে পাঁচটি ম্যাচে জয় পেয়েছে সেই ম্যাচগুলোর মধ্যে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন চারজন। তারা হলেন মোহাম্মদ আশরাফুল, সাকিব আল হাসান, আল আমিন হোসেন ও তামিম ইকবাল। এর মধ্যে তামিম ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন দুইবার। এবার বিশ্বকাপে নেই তামিম ইকবাল। ইনজুরির কারণে নিজেকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে নেন তিনি।

মোহাম্মদ আশরাফুল: নিজেদের ইতিহাসে খেলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটিতেই জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ২০০৭ সালে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে ক্যারিবীয়দের মুখোমুখি হয় টাইগাররা। সেই ম্যাচটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৬৪ রানে আটকে দেয় বাংলাদেশ। ম্যাচটি পরবর্তীতে বাংলাদেশ জিতে নেয় ছয় উইকেটের বড় ব্যবধানে। সেই ম্যাচটিতে বাংলাদেশের হয়ে আফতাব আহমেদ ৬২ ও মোহাম্মদ আশরাফুল ৬১ রান করে টাইগারদের দুর্দান্ত জয় এনে দেন। এরপর বিশ্বকাপে আরো চারটি ম্যাচ খেলে সবগুলোতেই হারের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। মাত্র ২৭ বল খেলে ৬১ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ফলে তার হাতে তুলে দেয়া হয় ম্যাচ সেরার পুরষ্কার। সে ম্যাচটিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান।

সাকিব আল হাসান: বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের পর দ্বিতীয় জয়ের জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০১৪ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। সেবার বাংলাদেশের মাটিতে বিশ্বকাপ হয়। কিন্তু তবুও বাংলাদেশ সরাসরি মূল পর্বে খেলতে পারেনি। মূল পর্বে খেলার আগে তাদের খেলতে হয় বাছাই। আর বাছাই পর্বে মোট তিনটি ম্যাচ খেলে টাইগাররা। বাছাইয়ে প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারায় তামিম-মুশফিকরা। এটি ছিল বিশ্বকাপে তাদের দ্বিতীয় জয়। সে ম্যাচটিতে আফগানিস্তানকে মাত্র ৭২ রানে গুটিয়ে দেয় টাইগাররা। এক্ষেত্রে বড় অবদান রাখেন সাকিব আল হাসান। তিনি মাত্র ৮ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন। ফলে তাকে দেয়া হয় ম্যাচ সেরার পুরস্কার। এই ম্যাচ বাংলাদেশ জেতে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন এনামুল হক বিজয়।

আল আমিন হোসেন: বিশ্বকাপে বাংলাদেশের তৃতীয় জয়টিও আসে ২০১৪ সালের বাছাই পর্বে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে জয় পায় তারা। যা ছিল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের তৃতীয় জয়। কিন্তু সেবার বাছাইয়ের তৃতীয় ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে আবার হেরে যায় টাইগাররা। তবুও মূল পর্বে জায়গা পায় বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের ওই ম্যাচটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করতে নামে নেপাল। হিমালয়ের দেশটি পুরো ২০ ওভার খেলে মাত্র ১২৬ রান করতে সমর্থ হয়। নেপালকে এই অল্প রানে বেঁধে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন পেসার আল আমিন। তিনি চার ওভার বল করে ১৭ রান দিয়ে দুটি উইকেট তুলে নেন। ফলে তাকে দেয়া হয় ম্যাচ সেরার পুরস্কার। ওই ম্যাচটি বাংলাদেশ জেতে আট উইকেটের ব্যবধানে। নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন এনামুল হক বিজয়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন তামিম ইকবাল।

তামিম ইকবাল: বাংলাদেশ ২০ ওভারের বিশ্বকাপে তাদের চতুর্থ জয়টি পায় ২০১৬ সালের বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে। সেবার বাছাইপর্বে প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয় টাইগাররা। ম্যাচটি বাংলাদেশ জেতে আট রানে। প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ সাত উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রান করে। বড় সংগ্রহ পেতে দলের হয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন ওপেনার তামিম ইকবাল। তিনি ৫৮ বলে ৮৩ রান করেন। দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ রান করেন সৌম্য সরকার। মানে দলের করা অর্ধেকের বেশি রান আসে তামিমের ব্যাট থেকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তামিম হন ম্যাচসেরা। ওই ম্যাচটিতে বাংলাদেশ হারের শঙ্কায় পড়ে যায়। কিন্তু আল আমিন ও সাকিব আল হাসান দুটি করে উইকেট তুলে নিয়ে ডাচদের ১৪৫ রানে আটকে দিতে সমর্থ হয়।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বশেষ জয়টি আসে ২০১৬ বিশ্বকাপেই এমনকি বাছাই পর্বেই। বাংলাদেশ তাদের পঞ্চম জয়টি পায় ওমানের বিপক্ষে। সে ম্যাচটিতে ওমানের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে ২ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান করে বাংলাদেশ। আর এ ম্যাচটিতে সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম। সব মিলিয়ে মাত্র ৬৩ বল খেলে ১০৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। এর মাধ্যমে টানা দুটি ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় হন তামিম। বাংলাদেশের দেয়া পাহাড়সম রান তাড়া করতে গিয়ে ওমান মাত্র ৬৫ রানে গুটিয়ে যায়। তাও ১২ ওভার খেলে। ওই ম্যাচে সাকিব আল হাসান ১৫ রান খরচায় চারটি উইকেট তুলে নেন।

image_print