Home খেলার খবর বাংলাদেশের সিরিজ জয়, শেষ ম্যাচে হার

বাংলাদেশের সিরিজ জয়, শেষ ম্যাচে হার

69
0
SHARE
Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক।।শেষটা সুন্দর হলো না। আসন্ন বিশ^কাপের আগে নিজেদের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ২৭ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ৫ ম্যাচের টি২০ সিরিজটা যদিও বাংলাদেশ ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে, কিন্তু ‘শেষ ভাল যার, সব ভাল তার’- সেই কথাটি সত্য হয়েছে কিউইদের জন্যই। দ্বিতীয় সারির দল নিয়েও ঘরের মাঠে অদম্য বাংলাদেশকে দুই ম্যাচে হারিয়ে তাই তারা হাসিমুখেই সিরিজ শেষ করেছে। শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলতি সিরিজে প্রথমবার ব্যবহৃত ৪ নম্বর উইকেট ছিল ভিন্নতর। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পুরো ৫ ম্যাচের সিরিজ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের ৪ ম্যাচে চিরাচরিত ধীরগতির উইকেট দেখা গেছে। কিন্তু সিরিজের এই পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে গতিময় উইকেটে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৬১ রানের বড় সংগ্রহ পায় নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশী বোলারদের আলগা বোলিংয়ের সুযোগ নিয়ে সিরিজের দ্বিতীয়, ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি করে কিউই অধিনায়ক টম লাথাম ৩৭ বলে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন। জবাবে ব্যাটিং ব্যর্থতার মাঝে আফিফ হোসেনের একক লড়াইও জেতাতে পারেনি বাংলাদেশকে। ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৪ রানের বেশি করতে পারেনি তারা।

বাংলাদেশ দলে এদিন ৪ পরিবর্তন। সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও শেখ মেহেদি হাসানের বদলে চলতি সিরিজে প্রথমবার সুযোগ পান সৌম্য সরকার, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও শামীম হোসেন পাটোয়ারি। এর মধ্যে সাকিব ও সাইফউদ্দিনের আবার আঙ্গুলের ব্যথাও রয়েছে। আর নিউজিল্যান্ড দলে তিন পরিবর্তন। ব্লেয়ার টিকনার, হামিশ বেনেট ও বাঁ পায়ের ব্যথার কারণে টম ব্লান্ডেলের বদলে একাদশে ফেরেন জ্যাকব ডাফি, স্কট কুগলেইন ও বেন সিয়ার্স। আগের ৪ ম্যাচ যেমন উইকেটে খেলা হয়েছে, এবার পুরোপুরি ভিন্ন উইকেটে পঞ্চম টি২০। আর সেই উইকেটে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন ফিন এ্যালেন ও রাচিন রবীন্দ্র। যদিও প্রথম ওভারটা দারুণ লাইনে ও গতিময় পেসে তাসকিন মাত্র ২ রান দিয়েছেন। আর দ্বিতীয় ওভারে নাসুম আহমেদের প্রথম বলেই রবীন্দ্র ক্যাচ দিয়ে জীবন পেয়েছেন। পরের দুই বলে হতাশ নাসুমকে চার ও ছক্কা হাঁকান বিধ্বংসী এ্যালেন। ১২ রান আসে ওভারটিতে। তৃতীয় ওভারেও তাসকিন মাত্র ৫ রান দেন (২-০-৭-০)। কিন্তু চতুর্থ ওভারে আক্রমণে এসে অগোছালো বোলিং করে ৩ চার, ১ ছয়ে ১৯ রান হজম করেন শরিফুল। তবে নিজের পরবর্তী ওভারেই (ইনিংসের ষষ্ঠ) ১১ রান দিলেও জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান শরিফুল। এ্যালেনের কাছে প্রথম বলে ছক্কা এবং তৃতীয় বলে রবীন্দ্রর কাছে চার হজম করলেও চতুর্থ বলে তাকে মিডঅনে মুশফিকুর রহীমের দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরে ফেরান এ বাঁহাতি পেসার। ৫৮ রানের দারুণ ওপেনিং জুটির পরিসমাপ্তি ঘটে। পরের বলেই এ্যালেনকে এলবিডব্লিউ দিলেও রিভিউ নিয়ে অল্পের জন্য বেঁচে যান। কিন্তু শেষ বলেই আবার তাকে লেগ স্টাম্পের ওপর প্রায় একই ধরনের ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন শরিফুল। এ্যালেন ২৪ বলে ৪ চার, ৩ ছক্কায় ৪১ রান করেন।

এরপরও কিউইরা পারওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে ২ উইকেটে ৫৮ রান তুলে দারুণ শুরু পায়। কিন্তু এরপর বেশ ভালভাবেই ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশের বোলাররা। সপ্তম ওভারে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৫, অষ্টম ওভারে সৌম্য ৪, নবম ওভারে আফিফ হোসেন ৪ রান দিয়ে ১ উইকেট তুলে নেন। প্রায় ১৭ মাস পর আবার টি২০-তে বোলিং করতে এসেই অনিয়মিত এ অফস্পিনার উইল ইয়াংকে (৬) স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন। দশম ওভারে অবশ্য সৌম্য ফিরতি ওভারে এসে একটি ছক্কাসহ ১১ রান দেন। ফলে ১০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ৮১ রান তুলে বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় কিউইরা। যদিও ১১তম ওভারে নাসুম ৪ রান দিয়ে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে (৯) সাজঘরে ফিরিয়েছেন। ১২তম ওভারে আন্তর্জাতিক ম্যাচে দ্বিতীয়বার বোলিংয়ে এসে ৪ রান দেন অফস্পিনার শামীম। আফিফের ১৩তম ওভারে আসে ৩ রান। ১৪তম ওভারে মাহমুদুল্লাহও ৪ রান দিলে তখনও মনে হয়নি কিউইরা খুব বেশি সংগ্রহ পাবে। কিন্তু এরপর থেকে ঝড় তোলেন অধিনায়ক টম লাথাম। তার ঝড়ে বেসামাল আফিফ ১৫তম ওভারে ১১, আগের ৩ ওভারে মাত্র ১৬ রান দেয়া তাসকিন ১৯তম ওভারে ১৮ এবং শেষ ওভারে শরিফুল ১০ রান দেন। ১৬ ও ১৭তম ওভারে ৯ রান করে ও ১৮তম ওভারে ৮ রান হয়েছে। ফলে শেষ ৬ ওভারে ১ উইকেটে ৬৫ রান তুলে নিয়েছে কিউইরা। সিরিজে দ্বিতীয়, ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন লাথাম। তিনি ৩৭ বলে ২ চার, ২ ছক্কায় ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬১ রানের বড় সংগ্রহ পায় নিউজিল্যান্ড। সফলতম বোলার শরিফুল ২ উইকেট নিতে পারলেও সর্বাধিক ৪৮ রান দিয়েছেন ৪ ওভারে। তাসকিন তার পরের ২ ওভারে ২৭ রান দিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গত সিরিজের ৫ ম্যাচে এবং চলমান সিরিজে আগের ৪ ম্যাচে এত রান হয়নি। এই প্রথম কোন দল ১৫০ পেরিয়েছে। লো-স্কোরিং ম্যাচে অভ্যস্ত মিরপুরের উইকেটে তাই এই লক্ষ্যটাকে অপার্থিব এবং পাহাড়সমই হয়েছে বাংলাদেশের জন্য। ডাফিকে ইনিংসের প্রথম বলেই চার হাঁকিয়ে শুরু করেছিলেন নাইম শেখ। প্রথম ওভারে ৮ রান আসলেও গতিটা ধরে রাখতে পারেননি নাইম ও লিটন দাস। পঞ্চম ওভারে লিটনকে (১২ বলে ১০) শিকার করেন বাঁহাতি স্পিনার এজাজ প্যাটেল। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভার শেষে ১ উইকেটে মাত্র ৩৫ রান ওঠে। সপ্তম ওভারে সৌম্যও (৪) সাজঘরে ফিরে যান ব্যর্থ হয়ে। অষ্টম ওভারে নাইমকে তুলে নিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেটের দেখা পান গতির ঝড় তোলা সিয়ার্স। ঘণ্টায় ১৪৭ কিলোমিটার গতির বলটিতে নাইম কট বিহাইন্ড হন ২১ বলে ৩ চারে ২৩ রান করে। পরের ওভারেই আবার মুশফিকুর রহিম (৩) রবীন্দ্রর স্পিনে সাজঘরে ফিরলে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ১০ ওভারে ৪ উইকেটে ৪৮ রান নিয়ে আরেকটি পরাজয়ের প্রহর গুনতে থাকে। তবে দারুণ লড়াই করেন আফিফ হোসেন। একাই কিউই বোলারদের শাসন করে গেছেন তিনি। তবে তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি কেউ। মাঝে মাহমুদুল্লাহ ২১ বলে ১ চার, ১ ছক্কায় ২৩ রানের ইনিংস খেললে মাত্র ৪৩ বলে ৬৩ রানের জুটি স্বপ্ন দেখাচ্ছিল জয়ের। কিন্তু মাহমুদুল্লাহ কুগলেইনের পেসে সাজঘরে ফেরেন। তারপর ব্যর্থ হয়ে নুরুল হাসান সোহান (৪), শামীম (২) ও তাসকিন (৯) দ্রুতই আউট হয়ে গেলে আফিফ একাই রানের চাপ কাটাতে পারেননি। তিনি শেষ পর্যন্ত ৩৩ বলে ২ চার, ৩ ছক্কায় ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন।

চলতি সিরিজে এটিই বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৪ রান করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিংয়ে বাঁহাতি স্পিনার এজাজ প্যাটেল ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। এছাড়া কুগলেইন ৩ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। ২৭ রানের হারে সিরিজ শেষ করেছে বাংলাদেশ ৩-২ ব্যবধানে জিতে। বিশ্বকাপের আগে শেষ ম্যাচের হার তাই মাহমুদুল্লাহদের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতাই দিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সারির দলটির বিপক্ষে যেখানে বড় ব্যবধানে সিরিজ জয়ের প্রত্যাশা ছিল, সেটি পূরণ হয়নি। যেমন উইকেটে বিশ্বকাপে খেলতে হবে, কিছুটা সে রকম উইকেটেই খেলে পঞ্চম ম্যাচে হেরেছে স্বাগতিকরা। আর যারা নিয়মিত খেলে যাচ্ছিলেন, তাদের বিশ্রাম দিয়ে সাইড বেঞ্চ পরীক্ষা করতে গিয়েও বাংলাদেশ দল নিজেদের শক্তিমত্তার গভীরতা বুঝে নিয়েছে। এই দলটিই তো আসন্ন বিশ্বকাপ মঞ্চে খেলবে। তাই শেষটা সুন্দর হলো না বাংলাদেশের।