খুলনায় চিংড়ির উৎপাদন ও রফতানি কমেছে, বেড়েছে কাঁকড়া-কুচিয়ার

খুলনা প্রতিনিধি:
করোনাকালীন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে খুলনায় মাছের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃদ্দির পরিমাণ ৬৪ হাজার ৫৪৫ মেট্রিক টন। তবে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ২০২১-২২ অর্থবছরের চেয়ে বিদায়ী অর্থবছরে চিংড়ি রফতানি হ্রাস পেয়েছে। এ সময়ে খুলনায় চিংড়ির উৎপাদনও কমেছে। কিন্তু কাঁকড়া ও কুচিয়ার উৎপাদন ও রফতানি বেড়েছে।
খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব কুমার বলেন, মৎস্য উৎপাদনে খুলনায় উদ্বৃত্ত প্রায় ৬৫ হাজার মেট্রিক টন। আর করোনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রফতানি কমেছে চিংড়ির। একই কারণে কমেছে চিংড়ির উৎপাদনও। আর কাঁকড়া ও কুচিয়ার বাজার ভালো থাকায় চাষিরা এগুলো উৎপাদনে জোর দিয়েছেন।
খুলনা জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলায় গলদা চিংড়ি খামারের সংখ্যা ৩৮,৮৯২টি, গলদা চিংড়ি খামারের আয়তন ১৯,০১৬.৪৪ হেক্টর, গলদা চিংড়ি উৎপাদনের পরিমাণ ১৩,৫৯২ মেট্রিক টন। ভেনামি চিংড়ির পরীক্ষামূলক চাষের ফলাফল সন্তোষজনক হওয়ায় এর বাণিজ্যিক চাষের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। হেক্টর প্রতি উৎপাদন ১০ মেট্রিক টন।
খুলনা জেলার আয়তন ৪৪০০ বর্গ কিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ২৬,১২,০৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৩,১১,৩৮৮ জন ও মহিলা ১৩,০০,৬৯৮ জন। কৃষি জমির পরিমাণ ১,৪৮,৭৬৪ হেক্টর (৩৬৭৪৪৭.০৮ একর)।
খুলনা জেলায় মোট মাছের উৎপাদন ১,২১,৭৫০ মেট্রিক টন। মোট মাছের চাহিদা ৫৭,২০৪.৬৮ মেট্রিক টন। উদ্বৃত্ত মাছের পরিমাণ ৬৪,৫৪৫.৩১৬ মেট্রিক টন। মোট চিংড়ি উৎপাদন ২৫,৩৭৫ মেট্রিক টন। খুলনা অঞ্চল থেকে মোট মৎস্য পণ্য রফতানি ২৮৩১৬.৭১ মেট্রিক টন। মোট বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ২৮২৩ কোটি টাকা। খুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মাছের উৎপাদন ১,০২,৮১৯ মেট্রিক টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১,১০,৩৩৫ মেট্রিক টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১,১১,১০১ মেট্রিক টন, ২০২১-২২ অর্থবছর ১,১৬,৯৪৬ মেট্রিক টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১,২১,৭৫০ মেট্রিক টন। খুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গলদার উৎপাদন ১৪৫৮৫ মেট্রিক টন, বাগদা উৎপাদন ১২৫৯১ মেট্রিক টন, ভেনামি উৎপাদন ১৪০৩ মেট্রিক টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে গলদার উৎপাদন ১৩৩২৫ মেট্রিক টন, বাগদা ১২৫৪৯ মেট্রিক টন, ভেনামি ১৭৩৩ মেট্রিক টন।
২০২০-২১ অর্থবছরে গলদার উৎপাদন ১১৪৪৬ মেট্রিক টন, বাগদা ১১৩১৭ মেট্রিক টন, ভেনামি ১৯৩৫ মেট্রিক টন, ২০২১-২২ অর্থবছরে গলদার উৎপাদন ১১৯৩৮ মেট্রিক টন, বাগদা ১১২২৪ মেট্রিক টন, ভেনামি ১৯৬০ মেট্রিক টন।
২০২২-২৩ অর্থবছরে গলদার উৎপাদন ১২১৫৭.৫ মেট্রিক টন, বাগদা ১১২৬৪.৭ মেট্রিক টন ও ভেনামি ১৯৫৩ মেট্রিক টন।
খুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন ১৯৬৮ মেট্রিক টন, অন্যান্য মাছ ৬৫২৪০.৮৫ মেট্রিক টন, কাঁকড়া ৭১১২ মেট্রিক টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন ২২৪০ মেট্রিক টন, অন্যান্য মাছ ৭৩৯৩৮ মেট্রিক টন, কাঁকড়া ৬২৫০ মেট্রিক টন, কুচিয়া ৩০০ মেট্রিক টন।
২০২০-২১ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন ২২৪২ মেট্রিক টন, অন্যান্য মাছ ৭৯২০৬.৮ মেট্রিক টন, কাঁকড়া ৪৮০৭ মেট্রিক টন, কুচিয়া ১৪৮ মেট্রিক টন।
২০২১-২২ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন ২২৫৫ মেট্রিক টন, অন্যান্য মাছ ৮৪৩৯৩ মেট্রিক টন, কাঁকড়া ৫০২১ মেট্রিক টন, কুচিয়া ১৫৪.৫ মেট্রিক টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন ২২৬৮ মেট্রিক টন, অন্যান্য মাছ ৮৮৭৮০ মেট্রিক টন, কাঁকড়া ৫১৭০ মেট্রিক টন, কুচিয়া ১৫৭ মেট্রিক টন। খুলনা অঞ্চল থেকে মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্য রফতানি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চিংড়ি ২৫৫৩০.৪৯৯ মেট্রিক টনে ২৪০৭ কোটি টাকা, মোট ২৯২০০.৭৯ মেট্রিক টনে ২৪৮৯ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চিংড়ি ২৪৪১৩.৪৪ মেট্রিক টনে ২১৭১ কোটি টাকা, মোট ২৯০০৬.৮২ মেট্রিক টনে ২২৯০ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে চিংড়ি ২৩০৬৮.৬০২ মেট্রিক টনে ২১৮৪ কোটি টাকা, মোট ২৯৫৪০.৯৭ মেট্রিক টনে ২৩৬০ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে চিংড়ি ২৩৩৬৭.০২১ মেট্রিক টনে ২০৩৫ কোটি টাকা, মোট ৩৩৭২৭.৫৬ মেট্রিক টনে ২৪১৫ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে চিংড়ি ২৪১০৪.০১২ মেট্রিক টনে ২৬১১ কোটি টাকা, মোট ৩৩২৭১.১৮ মেট্রিক টনে ২৯৬৩ কোটি টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে চিংড়ি ১৯৯০৪.৮৩৭ মেট্রিক টনে ২৪১২ কোটি টাকা, মোট ২৮৩১৬.৭১৪ মেট্রিক টনে ২৮২৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে মা ইলিশ সংরক্ষণে বর্তমান ২০২২-২৩ অর্থবছরে সমুদ্রে ৬৫ দিন মৎস্য আহরণে বিরত থাকা খুলনার ২৩০৮০টি জেলে পরিবারকে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১২৯২.৪৮ মেট্রিক টন ভিজিএফ (চাল) প্রদান করা হয়। কয়রার ১৩০৮৫টি পরিবারকে ৭৩২.৭৬ মেট্রিক টন, দাকোপের ৫০৯৭ পরিবারকে ২৮৫.৪৩২ মেট্রিক টন, বটিয়াঘাটায় ২০৪৯ পরিবারকে ১১৪.৭৭৪ মেট্রিক টন, রূপসার ২২৫ পরিবারকে ১২.৬০ মেট্রিক টন, ডুমুরিয়ার ৬৬৫ পরিবারকে ৩৭.২৪ মেট্রিক টন, পাইকগাছার ১৯৫০ পরিবারকে ১০৯.২০ মেট্রিক টন, দীঘলিয়ার ৯টি পরিবারকে ০.৫০৪ মেট্রিক টন সহায়তার চাল দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কোভিডকালীন প্রধানমন্ত্রীর অনুদান হিসেবে সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্প থেকে খুলনা জেলার ৯৮৫৮ জন চাষিকে ১৪ কোটি ২০ লাখ ১৩ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।
এই বিভাগের আরো খবর