Home শিক্ষাঙ্গন কিউএস র‍্যাংকিং ২০২৩ এবারো সেরা আটশতে নেই দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়

কিউএস র‍্যাংকিং ২০২৩ এবারো সেরা আটশতে নেই দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়

61
0
SHARE

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডসের (কিউএস) বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় এবারো ৮০১-১০০০তম অবস্থানে স্থান পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিংস ২০২৩: টপ গ্লোবাল ইউনিভার্সিটিস’ শীর্ষক এ র‍্যাংকিং প্রকাশিত হয়। র‍্যাংকিংয়ে ১০০১-১২০০তম স্থানে রয়েছে বেসরকারি ব্র্যাক ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।

কিউএস র‍্যাংকিংয়ে সেরা ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়। এরপর থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান থাকে না। এজন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট র‍্যাংকিংয়ে কততম স্থানে রয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। এবার কিউএস র‍্যাংকিংয়ে সব মিলিয়ে বিশ্বের ১ হাজার ৪০০ বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে।

র‍্যাংকিংটি তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করে কিউএস। সূচকগুলো হলো একাডেমিক খ্যাতি, চাকরির বাজারে সুনাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, শিক্ষকপ্রতি গবেষণা-উদ্ধৃতি, আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাত, আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক ও কর্মসংস্থান।

২০০৪-২০০৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশনের সঙ্গে যৌথভাবে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং প্রকাশ করলেও ২০১০ সালে আলাদা হয়ে যায় কিউএস। এরপর থেকে এককভাবেই র‍্যাংকিং প্রকাশ করে আসছে তারা। কিউএসের প্রকাশিত সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাকে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য র‍্যাংকিংগুলোর একটি মনে করা হয়। এ র‍্যাংকিংয়ে এখন আটটি সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মান নিরূপণ করা হয়। প্রতিটি সূচকে ১০০ করে স্কোর থাকে। সব সূচকের যোগফলের গড়ের ভিত্তিতে সামগ্রিক স্কোর নির্ধারিত হয়।

কিউএস র‍্যাংকিংয়ের একাধিক খ্যাতি সূচকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোর ১৯ দশমিক ৪০। একইভাবে চাকরির বাজারে সুনাম সূচকে ৩৪ দশমিক ২০, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে ১২ দশমিক ৯০, শিক্ষকপ্রতি গবেষণা-উদ্ধৃতিতে ২ দশমিক ৪০, আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাতে ১ দশমিক ৮০, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাতে ১ দশমিক ১০, আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কে ২৭ দশমিক ৬০ আর কর্মসংস্থানে ৫৬ দশমিক ৩০ স্কোর পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বুয়েট একাডেমিক খ্যাতিতে ১৪ দশমিক ১০ স্কোর পেয়েছে। একইভাবে চাকরির বাজারে সুনাম সূচকে ২৫ দশমিক ২০, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে ২১ দশমিক ৭০, শিক্ষকপ্রতি গবেষণা-উদ্ধৃতিতে ৯ দশমিক ৫০, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাতে ১ দশমিক ১, আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কে ১১ দশমিক ৭০ ও কর্মসংস্থানে ৪৬ দশমিক ৮০ স্কোর পেয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাতে বুয়েটের কোনো স্কোর উল্লেখ করা হয়নি।

দুই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক খ্যাতি সূচকে ৯ দশমিক ১০, চাকরির বাজারে সুনামে ২০ দশমিক ৩০, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে ১৬ দশমিক ৯০, শিক্ষকপ্রতি গবেষণা-উদ্ধৃতিতে ১ দশমিক ৭০, আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাতে ২ দশমিক ৮০, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাতে ২, আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কে ১৩ দশমিক ১০ ও কর্মসংস্থানে ২৪ দশমিক ৫০ স্কোর করেছে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক খ্যাতি সূচকে ১০ দশমিক ৪০, চাকরির বাজারে সুনামে ৩৭ দশমিক ২০, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে ৫ দশমিক ২০, শিক্ষকপ্রতি গবেষণা-উদ্ধৃতিতে ১ দশমিক ৯০, আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাতে ১৪ দশমিক ২০, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাতে ২ দশমিক ৬০, আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কে ১১ দশমিক ২০ ও কর্মসংস্থানে ২৬ দশমিক ৮০ স্কোর পেয়েছে।

কিউএস র‍্যাংকিং ২০২৩-এ বিশ্বের ১ হাজার ৪০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১০০-এর মধ্যে ১০০ স্কোর পেয়ে প্রথম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে আছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। র‍্যাংকিংয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ৪৪টি ও পাকিস্তানের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ভারতের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় সেরা ৩০০ স্থানে রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বণিক বার্তাকে বলেন, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই তার কার্যক্রমের মূল্যায়নের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। কিউএসের র‍্যাংকিংয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান উন্নয়ন না হওয়ায় অনেকে হতাশা প্রকাশ করছেন। আমার মতে হতাশার কিছু নেই, র‍্যাংকিংয়ে অবস্থানের বিষয়টি প্রতিযোগিতামূলক। আমরা চেষ্টা করছি, অন্যরাও তো বসে নেই। সম্প্রতি র‍্যাংকিংয়ে অবস্থান উন্নয়নের জন্য বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করছি, কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এর ফল পেতে শুরু করবে।

image_print