Home খেলার খবর কাতার ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরী হয়েছে বাংলাদেশীর হাতের ছোঁয়ায়

কাতার ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরী হয়েছে বাংলাদেশীর হাতের ছোঁয়ায়

173
0
SHARE

ক্রীড়া প্রতিবেদক।। বিশ্বের সর্ববৃহত আসর ফুটবল বিশ্বকাপ, বিশ্ববাসীকে অবাক করে কাতার বিশ্বকাপের অবকাঠামো তৈরীতে বাংলাদেশের মোঃ হারুনূর রশীদ (মাসুদ রানা) এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক দেশের মানুষের শ্রম। বাংলাদেশ এর অন্যতম। এই যেমন দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট থানাধীন ভাতছালা গ্রামের আঃ রহমান সরকারের ছোট ছেলে হারুনূর রশীদ (মাসুদ রানা) এর কথাই ধরুন, কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম ভেন্যু আল রাইয়ান এডুকেশন সিটি স্টেডিয়াম ও অন্যান্যর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর নাম। এই স্টেডিয়াম গুলির নির্মাণকাজে জড়িত কর্মকর্তা কর্মচারী আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত যানের প্রধান চালক হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন তিনি। শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার ফাইনালের একটি করে ম্যাচসহ এবারের বিশ্বকাপের আটটি ম্যাচ হবে এখানে।

কাতার স্টেডিয়াম গুলো তৈরীতে মাসুদ রানার এমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অর্জনে খুশি তার বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা গোলাম মোরশেদ রয়েল যিনি চাকুরী শেষে রেইনবো ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কস-ঢাকা এর সিইও এন্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর। ঘোড়াঘাটের ছেলে কাতার বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম নির্মানে গুরুত্বপূর্ণ পদে, এটা সত্যিই গর্বের।

২০১২ সাল থেকে কাতারের রাজধানী দোহায় আছেন মাসুদ রানা। তিনি কাতার স্টেডিয়ামের কর্মকর্তা-কর্মচারী বহনে ব্যবহৃত বাহনের (বাস) চালক হিসেবে চাকরি নিয়ে গেছেন সেখানে। মেধাবী ও পরিশ্রমী মাসুদ রানা ব্যবসায়ী (সওদাগর) আঃ রহমান সরকারের ছোট ছেলে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সে ৪র্থ। তাঁর মা মৃত মমতাজ বেগম ছিলেন একজন গৃহিণী।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মাসুদ রানা ১৯৯২ সালে গোপালপুর শহীদ রশীদ চৌধুরী দ্বি-মুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ১৯৯৪ ঘোড়াঘাট ডিগ্রী কলেজ (ওসমানপুর) থেকে এইচএসসি ও একই কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে বিএ পাস করেন। পরে জয়পুরহট সোনার বাংলা মটর ড্রাইভিং থেকে ড্রাইভিং শিখে লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়ে প্রথমে দুবাই যান, সেখান থেকে জিসিসি আন্তর্জাতিক মানের লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়ে দেশে আসেন তারপর ২০১২ সালে কাতার গমন। ২০২০ সালে কাতার বিশ্বকাপের ভেন্যু নির্মাণকাজে যোগ দেন তিনি।

কিছুদিন আগে দেশে আসা মাসুদ রানা এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম নির্মাণকাজে জড়িয়ে পড়াটা স্বপ্নের মতো। বিশাল একটা বিশ্ব ইভেন্টে কাজ করতে পারাটাও অনেক গর্বের ব্যাপার। কত বড় বড় তারকা খেলবেন এই মাঠে, এটা ভেবেই ভালো লাগছে যে, এমন এক কাজে একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমার হাতের ছোঁয়া আছে।’

ঢাকায় বসবাসকারী মাসুদ রানার বড় ভাই রয়েল বলেন, এ ‘সবকিছুর ওপরে হচ্ছে নিজ দেশকে বহিঃবিশ্বে রিপ্রেজেন্ট করা। আমার ছোট ভাই মূলত দেশের সুনাম অক্ষুন্ন রেখে কাজ করছেন। বিশ্বকাপের মতো এত বিশাল ইভেন্টে আমাদের পরিবারের অংশগ্রহণ আছে, এর জন্য আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাংখীদের অনেক শুভকামনা পাচ্ছি। সত্যি আমরা গর্বিত ও ধন্য।

image_print