Home প্রধান খবর এসডিজিতে অর্জন-এগিয়ে যাও বাংলাদেশ

এসডিজিতে অর্জন-এগিয়ে যাও বাংলাদেশ

349
0
SHARE

এসডিজি বিষয়ক বিশ্লেষণধর্মী বিশেষ প্রতিবেদন-১

আফজাল হোসেন লাভলু।। এসডিজিতে অর্জন-এগিয়ে যাও বাংলাদেশ-যেতে হবে বহুদূর।

সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) বা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে আগের চেয়ে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ একই সাথে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহন বাড়ছে। সদ্য সমাপ্ত হওয়া জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক সন্মেলন কোপ-২৬ তার উজ্জল দৃষ্টান্ত। এসডিজি সূচকে বিশ্বের ১৬৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৯তম। করোনাকালে ও র‌্যাঙ্কিং ও ইনডেক্স স্কোর উভয় দিকে বাংলাদেশের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এসডিজির ১৭টি অভীষ্টের মধ্যে দারিদ্র্য বিলোপ, গুণগত শিক্ষা, শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তন কার্যক্রম অর্জনে সঠিক পথেই রয়েছে বাংলাদেশ। যদিও গত পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশ যতটা উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেই সম্ভাবনার শতভাগ বাস্তবায়ন করা যায়নি। তবুও সুশাসন, ন্যায় বিচার, জে-ার সমতা, বৈষম্য কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সঠিক পথে এগুচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সার্বিক এসডিজি সূচক বিশেষতঃ এসডিজি ১৬ অর্জন করতে সরকারের নেয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে নিয়ে আসতে হবে। এসডিজি বিষয়ক জাতীয়,আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এসব জানা গেছে।

বিসিআরঃ এমডিজিঃ এসডিজিঃ

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নের ধারণা প্রথম আলোচনায় আসে ১৯৮৭ সালে, ব্রুন্টল্যান্ড কমিশন রিপোর্টে। এর পর ২০০০ সালে শুরু হয় ‘মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল’ বা এমডিজি যা শেষ হয় ২০১৫ সালে। কাজের ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে জাতিসংঘ ঘোষণা করে ১৫ বছর মেয়াদি ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল’ বা এসডিজি। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য ও ১৬৯টি টার্গেট পূরণ করতে হবে। এরই মধ্যে কেটে গেছে পাঁচ বছর। এসডিজি সূচকে বিশ্বের ১৬৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৯তম। চার বছর আগে অর্থাৎ ২০১৭ সালের সূচকে ১৫৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছিল ১২০তম অবস্থানে। ২০১৫ সালের পর থেকে এসডিজি সূচকে স্কোরের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে বাংলাদেশ। এসডিজি সূচকে ১শ’র মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ৬৩.৫। এক বছর আগে এই স্কোর ছিল ৬৩.২৬, তার আগের বছর ছিল ৬৩.০২। জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) চলতি বছরের জুন মাসে তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। অভীষ্ট ১৬তে বলা হয়, শান্তি , ন্যায়বিচার এবং কার্যকর প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তিপুর্ন ও অন্তভুক্তিমূলক সমাজ ব্যবস্থার প্রচলন, সকলের জন্য ন্যায়বিচারের পথ সুগম করা এবং সকলস্তরে কার্যকর, জবাবদিহিপূর্ন অন্তভুক্তিমূলক প্রতিষ্টান বিনির্মানের কথা। তার সূচক ৮ এ বলা হয়েছে, বৈশি^ক শাসন পরিচালনা (গভর্ন্যান্স) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টান সমুহে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশগ্রহন বৃদ্বি ও তাদের ভুমিকা জোরদার করার কথা। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভোটিং সিস্টেমে এক সদস্য এক নীতি অনুসরন করা হচ্ছে।

এসডিজিঃ বৈশি^ক শাসন পরিচালনায় বাংলাদেশ

এসডিএসএন ও বাংলাদেশ সরকারের এসডিজি বিষয়ক প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষনে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে যে দেশটির প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য পীড়িত ছিল, স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে সে দেশটিতে আজ দারিদ্র্যের হার নেমে এসেছে ২০ শতাংশের ঘরে। জাতিসংঘের ক্ষমতাশালী কমিটিগুলো সহ প্রায় শতাধিক কমিটিতে বাংলাদেশ অংশগ্রহন করে নীতি-নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সংখ্যক শান্তিরক্ষি প্রদানকারী দেশ। বিশ্বে ৭৮টি মিশনে মোট বাংলাদেশের সৈন্য সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। জাতিসংঘের অর্থনীতি বিষয়ক ও পিস্ বিল্ডিং কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের গৃহিত বিভিন্ন কার্যক্রমে বাংলাদেশের সফলতা রয়েছে যেমন, নারী উন্নয়ন, তথ্য-প্রযুক্তির অর্থনৈতিক অগ্রগতি, জন্মসনদ প্রভৃতি। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক কর্মকান্ডে দু’টি পুরস্কার,যথা এমডিজি অ্যাওয়ার্ড ও সাউথ-সাউথ পুরস্কার লাভ করে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র শীর্ষক কনভেনশনের আন্তঃরাষ্ট্রীয় কমিটিতে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে আগামী ২০২১-২০২৫ মেয়াদের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ নির্বাচিত হয়। সৃজনশীল অর্থনীতি ক্ষেত্রে ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরষ্কার’ প্রবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক পরিমন্ডলে নেতৃত্বের নতুন অবস্থানে এসেছে। গত বছরের জুন মাসে জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক কমিটিতে জাতিসংঘের ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স বিষয়ক গ্রুপ অব ফ্রেন্ডসের স্টিয়ারিং কমিটিতে যোগ দেয় বাংলাদেশ। সম্প্রতি বাংলাদেশ ৪৮ সদস্যবিশিষ্ট ক্লাইমেট ভারনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) এবং অর্থমন্ত্রীদের ‘দ্য ভারনারেবল-২০ (ভি-২০)-এর ২০২০-২০২২ মেয়াদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে পূর্ণাঙ্গ বহুপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সুচিন্তিত মতামত প্রদান ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশ্ব সংস্থাটির প্রতিনিধিত্বশীল অঙ্গ হিসেবে সাধারণ পরিষদ কাজ করে থাকে। এর আগে ২০১৬-১৭ মেয়াদে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে বাংলাদেশ সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করে। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা হতে উত্তরণ, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান ও বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় আজ বৈশি^ক আলোচিত বিষয়।

এসডিজির জন্যঃ 

এসডিজি ১৬-এর অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো অগ্রগতি অর্জন করেছে। দায়বদ্ধ ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন করা, উল্লেখযোগ্য হারে দুর্নীতি ও সব ধরনের উৎকোচ কমাতে এবং সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংস্থাগুলোকে শক্তিশালী করতে সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে। বহুপক্ষীয় দাতার প্ল্যাটফর্ম গ্লোবাল কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ফান্ডের (জিসিইআরএফ) আওতায় বাংলাদেশে একটি মিশ্র ধারার পদ্ধতির প্রসার করা হচ্ছে যাতে সরকার ও সুশীল সমাজের কর্মীরা একসঙ্গে কাজ করতে পারেন। ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট: বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রতিবেদন-২০২০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত চার বছরে দেশে এসডিজি বাস্তবায়নের নিরিখে এই মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। প্রতিবেদনে বর্তমান সরকারের ভালো কিছু উদ্যোগের উল্লেখ করা হয় যেমন, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ), সিটিজেন চার্টার, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল (এনআইএস) এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) প্রভৃতি। প্রতিবেদন তৈরিতে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১ এবং দীর্ঘমেয়াদি বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ ব্যাপক ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, মন্ত্রণালয়গুলো এসডিজি বাস্তবায়নে নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, এসডিজি অগ্রগতি পরিমাপক চালু করা, এসডিজির অভীষ্ট অর্জনে অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা নিরূপণসহ অর্থায়ন কৌশল নির্ধারণ করা, ইতিমধ্যে এসডিজি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য জাতীয় সম্মেলন, উপাত্ত সমন্বয়ের জন্য জাতীয় কমিটি গঠন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের যেসব অঙ্গ সংস্থার কার্যক্রম রয়েছে তাদের সঙ্গে সরকারের সহযোগিতা কাঠামো প্রস্তুত এবং এসডিজি স্থানীয়করণের জন্য সরকার ৪০টি (৩৯+১) সূচক অনুমোদন সম্পন্ন করা হয়েছে। অতিরিক্ত সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে ‘কাউকে পেছনে ফেলে রাখা যাবে না’ নীতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। ইতোমধ্যে ২০১৭ এবং ২০২০ সালে দুটি বাংলাদেশ ভলান্টারি ন্যাশনাল রিভিউ (ভিএনআর) জাতিসংঘে জমা দেয়া হয়েছে। ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট খাত ভিত্তিক মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনাও এসডিজির লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এসডিজি পরিবিক্ষণ ও মুল্যায়নে উপাত্ত প্রস্তুত ও বিভাজনের কর্মপরিকল্পনা ও পদ্বতিগত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছেন। সেখানে অভিষ্ট ১৬ এর অন্তর্গত ১২টি টার্গেট অর্জনে ২৪টি ইন্ডিগেটর নির্ধারণ করা হয়েছে।

যেতে হবে বহুদূরঃ

বাংলাদেশ অগ্রগতি প্রতিবেদন ২০২০ ও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয় দক্ষিণ এশিয়ায় এসডিজি-১৬ বাস্তবায়নে প্রচুর সম্পদ প্রয়োজন, যা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে জোগাড় করতে হবে। এসব ব্যয় হবে অর্থায়ন, প্রযুক্তি, সক্ষমতা ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে। অন্যদিকে সিটিজেন পারসেপশন হাউসহোল্ড সার্ভে (সিপিএইচএস, ২০১৮)-এর তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৩৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ মানুষ সর্বশেষ যে সরকারি সেবা নিয়েছে তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আর জাতিসংঘের এসডিএসএন সূচক এবং সর্বশেষ ড্যাশবোর্ডস রিপোর্ট অনুযায়ী, এসডিজির ১৭ টি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ৮ টি তেই ‘লাল কার্ড’ পেয়েছে বাংলাদেশ, যার মধ্যে এসডিজি ১৬ ও রয়েছে। যার অর্থ হলো এ সব ক্ষেত্রে আরো অনেক কাজ করতে হবে। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অভিষ্ট-১৬‘শান্তি, ন্যায় বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানের’ ক্ষেত্রে ও ছয়টি ঝুঁকি রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিবেদনে চিহিৃত ঝুঁকিগুলোর মধ্যে রয়েছে-সম্পদ সংগ্রহ, বিশেষ করে বৈদেশিক উৎস থেকে সম্পদ সংগ্রহের ঝুঁকি, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও মধ্যম আয়ের ফাঁদ বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় ঝুঁকি।

বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন(বিএনএনআরসি) প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমান বলেন, বৈশি^ক শাসন পরিচালনায় বাংলাদেশের অংশগ্রহন বাড়ছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্বি, স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণ, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে আশ্রয়দান বৈশি^ক আলোচনায় প্রশংসা পেয়েছে। এসডিজি ১৬ অর্জনে আমাদের কে সন্মিলিতভাবে আরো অনেক কাজ করতে হবে। এসডিজি ১৬ বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি বে-সরকারি খাত হতে কর্পোরেট স্যোস্যাল রেন্সসিবিলিটি (সিএসআর) সহায়ক খাত হতে পারে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শান্তি-ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সুশাসনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জেন্ডার সমতা, বৈষম্য হ্রাস এবং টেকসই উৎপাদনও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম,বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বৈশিক শাসনে বাংলাদেশের অংশগ্রহন দিন দিন বাড়ছে তবে, সামগ্রিকভাবে এসডিজির ১৬ নম্বর গোল অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক উন্নতি ও সুশাসনে অগ্রগতি না হলে উপরের ১ থেকে ১৫ নম্বর গোলের লক্ষ্য অর্জন বাধাগ্রস্ত হবে। এসডিজি বাস্তবায়নে ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি।

শেষ কথাঃ

জিইডি’র প্রতিবেদনে এসডিজি-১৬ অর্জনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়েছে যেমন, বাড়তি বিনিয়োগ। সে হিসেবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৭৮ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ২৩৩ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। এই বাড়তি খরচের ৮০ শতাংশ সরকারি উৎস এবং ২০ শতাংশ বাইরের উৎস থেকে আসার কথা। কাজেই অর্থায়ন ঘাটতি পূরণে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে আরও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। ব্যাপক জনসচেতনতা, আরও জোরালো প্রচেষ্টা এবং স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগেরও দরকার পড়বে। বর্তমানে এসডিজি-১৬ অর্জনের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য দুশ্চিন্তার নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অগ্রগতির জন্যও ভাবার বিষয়।

 

 

image_print