Home খেলার খবর এবার জাপান ভাঙলো ভারতের স্বপ্ন

এবার জাপান ভাঙলো ভারতের স্বপ্ন

124
0
SHARE

বিশেষ সংবাদদাতা।।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগের পাঁচ আসরের মধ্যে একবার ফাইনালে উঠতে পেরেছিল জাপান। ২০১৩ সালের সেই ফাইনালে জাপানিরা ৩-১ গোলে হেরেছিল পাকিস্তানের কাছে।

পাকিস্তানকে প্রথম সেমিফাইনালে হারানো দক্ষিণ কোরিয়া আগে কখনো ফাইনালমঞ্চে উঠেনি। টুর্নামেন্টের ঢাকার আসর উপহার দিচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়ন। ভারতকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে নাম লিখিয়েছে জাপান।

হকিতে এক-দুই গোলে লিড নেওয়া তেমন কিছু নয়। দুটি পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে ২-০ করা জাপানের বিপক্ষে ভারত ঘুরে দাঁড়াবে পারবে-এমন বিশ্বাস ছিল সবার মধ্যে। কিন্তু হয়ে উঠেনি। হয়ে উঠেনি জাপানের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে। এক পর্যায়ে জাপানের সামনে পুরোপুরি অসহায় মনে হয়েছে সর্বশেষ আসরের যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ও টোকিও অলিম্পিকে স্বর্ণজয়ী ভারত।

মাঝমাঠে বল গেলেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছিল জাপানি খেলোয়াড়রা। স্কিল, গতি, টেকনিক-সবদিক দিয়েই ভারতকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে জায়গা করে নেয় এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী জাপান।

এর আগে ভারতের বিপক্ষে জাপানের সর্বশেষ জয় ছিল ২০১৩ সালের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। সে ম্যাচে স্বাগতিক জাপান ২-১ গোলে জিতেছিল। একদিন আগেই লিগ পর্বের ম্যাচে ভারত ৬-০ গোলে জিতেছিল জাপানের বিপক্ষে। সেই জাপানই ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে গুনেগুনে ৫ গোল দিয়েছে ভারতের পোস্টে।

প্রথম মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোকে ভারতের গোলরক্ষক সুরাজ কেরকেরাকে ফাঁকি দিয়ে বল পোস্টে পাঠান শোতা ইয়ামাদা। দ্বিতীয় মিনিটে আবার পেনাল্টি কর্নার। জাপান ব্যবধান দ্বিগুণ করে রাজকি ফুজুশিমার ফ্লিকে। প্রথম কোয়ার্টারে জাপানকে একবারের জন্যও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারেনি গ্রুপ পর্বের টম টিম হিসেবে সেমিফাইনালে আসা ভারত। ১২ মিনিটে ভারত এ কোয়ার্টারের একমাত্র আক্রমণ গড়লেও জাপান রক্ষণ আস্থার সাথেই তা রুখে দেয়।

দ্বিতীয় কোয়ার্টারও শুরু হয় জাপানের আধিপত্য দিয়ে। ১৭ মিনিটে ধারার বিপরীতে দিলপ্রিত সিংয়ের ফিল্ড গোলে ব্যবধান কমায় ভারত। গোলের পর বল দখলের দিক থেকে ভারত ম্যাচে ফিরে আসে।

১৯ মিনিটে জাপান গোলরক্ষক কিরিশিতা তাকুমি দারুণ দক্ষতায় ভারতের পেনাল্টি কর্নার রুখে দেন। ২৯ মিনিটে কেনতা তানাকাকে সার্কেলে ট্যাকল করেন ভারত গোলরক্ষক সুরাজ কেরকেরা। আম্পায়ার পেনাল্টির আবেদন নাকচ করে দেন। রিভিউর সিদ্ধান্ত জাপানের পক্ষে যায়। স্ট্রোক থেকে স্কোর লাইন ৩-১ করেন ইউশিকি কিরিশিতা।

প্রথমার্ধে জাপান প্রতিপক্ষ গোলে ৬টি হিট নিয়েছে, ভারত নিয়েছে ৪টি। জাপান ৬ পেনাল্টি কর্নারের বিপরীতে ভারত পেয়েছে একটি। ৩৫ মিনিটে কোশেই কাওয়াবেই ফিল্ড গোল করে স্কোর লাইন ৪-১ করেন। ম্যাচে ফিরতে মরিয়া ভারত সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণে ঝাঁপায়। ৩৭ ও ৩৮ মিনিটে দুটি কাউন্টার এ্যাটাকে প্রতিপক্ষকে কাপিয়ে দিয়েছিল জাপান। ৪১ মিনিটে তৃতীয় প্রচেষ্টায় সফল হয় দলটি। রায়োমা ওকার ফিল্ড গোল স্কোর লাইন ৫-১ করে।

৫৩ মিনিটে হারমানপ্রিত সিংয়ের পেনাল্টি কর্নার গোলে ব্যবধান কমায় ভারত। ৫৮ মিনিটে ভারতের দুটি পেনাল্টি কর্নার রুখেদেয় জাপান রক্ষণ। ৫৯ মিনিটে আরেকটি পেনাল্টি কর্ণার পায় ভারত, হারদিক সিং গোল করে ব্যবধান কমান। তবে হার এড়াতে পারেনি ভারত।

image_print