Home অর্থ বাণিজ্য চিত্র “সোনালী আঁশে কৃষকের হাসির ঝিলিক”

“সোনালী আঁশে কৃষকের হাসির ঝিলিক”

50
0
SHARE
Spread the love

সেলিম সানোয়ার পলাশ, রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পাট কেটে পানিতে জাগ দেওয়ার পর পাটের সোনালী আঁশ ছড়ানোর কাজ চলছে পুরোদমে। রোদে শুকানোর পর পাট কৃষকরা বিক্রিও করছেন আড়তে নিয়ে। পাট মৌসুমের শুরুতেই কৃষক ভাল দাম পাওয়ায় সোনালী আঁশে গোদাগাড়ীর কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, গত বছর গোদাগাড়ীতে পাটের আবাদ হয়েছিল ৯ শ’ হেক্টর জমিতে। এবার পাট চাষ হয়েছে ১ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে। পাট কাটা প্রায় শেষের পথে। জাগ দেয়ার পর পাটের আঁশ আলাদা করে শুকিয়ে বিক্রিও করছে কৃষকরা।
গোদাগাড়ী উপজেলায় পদ্মা নদীর ওই পাড় চরআষাঢ়িয়াদহ ইউনিয়নে এবার বেশী পাটের আবাদ হয়েছে। এ ইউনিয়নে প্রায় ৬শ’ ৫০ হেক্টোর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এছাড়াও দেওপাড়া, মাটিকাটা, গোগ্রাম ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার পাটের ভাল আবাদ হয়েছে।
চর এলাকার পাটচাষী এন্তাজ জানান, এবার ৭ বিঘা জমিতে সে পাট চাষ করেছেন। জমির পাট কেটে জাগ দিয়েছেন। কিছু জাগ তুলে আঁশ ছড়ানো শুরু করে দিয়েছে। তার পাট চাষ করতে বিঘা প্রতি ৬ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। বিঘা প্রতি তার পাট ৮ থেকে ১০ মন করে ফলছে। সে আরো জানায় গত বছর পাট চাষ করে লাভ হয়েছিল। এবারো তার আরো লাভ হবে। লাভ হওয়ার কারন হিসাবে সে জানায়, পাটের দাম ভালো, বর্তমানে পাট প্রতি মণ ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
পাট চাষী একরামুল জানায়, এবার বৃষ্টি হওয়ায় খালে-বিলে পানির অভাব নেই। খালে পানি থাকায় পাট জাগ দিতে তেমন কোন সমস্যা হয়নি। আঁশের মান ভাল হবে বলেই তিনি আশা করছেন। এবার তার পাটে লাভ হবে বলে জানান তিনি।
আড়তদার বাতু বলেন, প্রথম থেকেই এবার পাটের দাম রয়েছে। বর্তমানে তারা ৩ হাজার টাকা মণ দরে পাট কিনছে।
অন্যানো পাট চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জমিতে পাট চাষ করে সব খরচ বাদে বিঘা প্রতি তাদের শুধু সোনালী আঁশ বিক্রি করেই ১২ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। বাড়তি পাচ্ছেন পাটের খড়ি । সেগুলো বাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার ও বিক্রি করবেন।
গোদাগাড়ী কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আবুল হোসেন বলেন, এবার আবহাওয়া পাট চাষর অনুকুলে ছিল। পাটের ফলনও বেশী। প্রথম থেকে কৃষকেরা পাটের দাম ভাল পাচ্ছেন। এতে করে চাষীরা লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে এ উপজেলায় আরো বেশী পাট চাষের সম্ভাবনা রয়েছে।