Home এক্সক্লুসিভ একাত্তরের স্মৃতিচারনায় দেশ গার্মেন্টসের চেয়ারম্যান রোকেয়া কাদের

একাত্তরের স্মৃতিচারনায় দেশ গার্মেন্টসের চেয়ারম্যান রোকেয়া কাদের

751
0
SHARE
সময়ের চিত্র ডেস্ক ।। রিপোর্টারঃ জে আর মুন্না ।।
দেশ গার্মেন্টস এর চেয়ারম্যান রোকেয়া কাদের মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে ১৯৭০ সালের দিকে পাবনায় মা-বোনদের নিয়ে বেড়াতে গিয়ে শরণার্থী হতে হয়েছিল টানা নয় মাস। মুক্তিযুদ্ধের এই নয় মাস কষ্টের কথা আমাদের জানান রোকেয়া কাদের। 
পাবনায় বেড়াতে গিয়ে যুদ্ধের বৈরী আবহাওয়া দেখে তিনি আবার ঢাকায় ফিরে আসার ব্যাপারে মনঃস্থির করলাম। ২৭ মার্চ চারদিকে বন্ধুকের বিকট আওয়াজ শুনে আমরা চমকে ঊঠলাম। আমরা বুঝতে পার ছিলাম না আসলে কী হচ্ছে। বন্ধূকের আওয়াজ শুনে আমরা সবাই দৌড়ে পাশে রমনা আবাসিক ভবনে গিয়ে উঠলাম।সারা রাত গোলাগুলি হলো।ভোরের দিকে সবাই ভবন থেকে যাওয়া শুরু করলো। পাশের একটি গ্রাম সবাই আশ্রয় নিচ্ছিল।আমরা সবাই গিয়ে ঐ গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নিলাম।
দুদিন পরে আমরা ডিসি সাহেব এর বাসায় গেলাম।তিনি আমাদের বললেন তাড়াতাড়ি রেডি হও। তিনি গাড়ি নিয়ে এক গ্রামের গিয়ে গাড়ীটি খড় এর মাঝে লুকিয়ে আমাদের নিয়ে গ্রাম এর জমির মাঝ দিয়ে হাঁটতে শুর করলেন।শেষ পর্যন্ত হাঁটতে হাঁটতে আমরা কুষ্টিয়া এসে পৌছালাম।সেই দিন রাতে আমারা একজন আওয়ামীলীগ নেতার বাড়ীতে আশ্রয় নিলাম।রাতে ওখানে ছিলাম।
পরের দিন ইশ্বরদি হয়ে ট্রেনে করে কুষ্টিয়া শহরে পৌছালাম। সেই রাতে আমরা সার্কিট হাউজে ছিলাম।সার্কিট হাউজে থেকে পরের দিন আমরা মেহেরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।কৃষ্ণ নগরের ডিসি আমাদের চা নাস্তার দাওয়াত দিয়েছিল।ডিসির স্ত্রীর সাথে আমরা চা খেতে গিয়েছিলাম।ওইখানে আমরা কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউজে আট-দশ দিনের মতো ছিলাম।কলকাতায় গিয়ে আমরা শরনার্ত্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছিলাম। আমার বাবা জানার পরে পাবনায় আমার ভাইকে পাঠিয়ে ছিলেন আমাদের খোজার জন্য।
আমরা কলকাতায় কিছুদিন থেকে তারপর গোহাটি/আসাম হয়ে শ্রিলং এর রাজধানী মেঘালয়ে গিয়ে আত্নীয়্র এর সাথে নয় মাস শরণার্থী হিসেবে ছিলাম। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের জানুয়ারী মাসে দেশ স্বাধীন হবার দিন আবার কলকাতা হয়ে ঢাকায় ফিরে এলাম দীর্ঘ নয় মাস ভারতে শরণার্থী হিসেবে থাকার পর।আমি কখনো ভাবিনি আবার বাবা-মা সবাইকে জীবিত দেখতে পাবো।ভীষন আবেগময় একটি অভিজ্ঞতা ছিল!!
এভাবে ১৯৭০ থেকে ১৯৭১ সালের সেই দুঃসহ দিনগুলির কথা বলেন দেশ গার্মেন্টস এর চেয়ারম্যান রোকেয়া কাদের।
image_print