Home উপ-সম্পাদকীয় একাকীত্বে আনন্দ

একাকীত্বে আনন্দ

62
0
SHARE

নাসির উদ্দিন মল্লিক।।

আহ একাকীত্বে কত আনন্দ। ভাবতে থাকুন- আপনি একা একা বিশাল এক দীঘির ঘাটে বসে আছেন। দীঘির পানিতে চাঁদের আলো পরে আপনার আবয়বে প্রতিফলিত হচ্ছে।আপনি তাকায়ে আছেন চাঁদের পানে। কল্পনার জগতে হারায়ে যান, একসময় অনুভব করতে পারবেন আপনি ভুলে গেছেন,পৃথিবির সকল কস্ট,বেদনা, সকল জ্বালা, না পাওয়ার বেদনা,হতাশা, সব সব কিছু।কিন্ত আবার ভাবুন তো-আপনার পাশে বসে আছে আপনার প্রিয়জন কেহ।তখন কি এমন ভাবনা হবে কি? না,একদম না।কিছু সময় বসার পর সে বলবে-শোন এ ঈদে কিন্তু আমার সংসার খরচ ৪০,০০০/= টাকা দিতে হবে। আপনি বললেন হ্যাঁ দিব। সে বলবে না তাতে হবে না। আমার শাড়ি,বাচ্ছাদের কাপড় চোপড় আরও ৪০,০০০/=টাকা লাগবে। আপনি বলবেন হ্যাঁ দিব।সে বলবে না তাতে হবে না,আমার কিন্তু এ বছর সেই ১৫০০০/=টাকা দামের থ্রিপিচটা লাগবেই।তখন হয়তো আপনি ভাবনার জগত থেকে এহজগতে ফিরে আসবেন, বলে কি? আমার বেতন তো মাত্র ৫০,০০০/=টাকা। বাকি টাকা কোথায় পাব? চাঁদের গহনে মনের বেদনা হারিয়ে ফেলা আর হবে না। হয়তো আপনি বিবাহস্বাদি করেননি, প্রেমিকা সহ দীঘির পাড়ে বসে আছেন।কিছু সময় হয়তোবা দু’জন দু’জনার পানে পলকহীন দৃস্টিতে,ছলছল জলে ভরা নযনে চেয়ে থাকবেন,আহা কি আনন্দ এ ভূবনে।কিছুসময় পরে নিরবতা ভেঙ্গে সে বলা শুরু করবে-এই শোন? কি? বিয়ের পর কিন্তু আমি আর এ গ্রামে থাকবো না। তোমার সাথে ঢাকা যাব,আমাদের ছোট্র একটা বাসা হবে,ছোট্র একটা বাচ্ছা হবে,সে সারা ঘরে দৌড়ে বেড়াবে।আম্মু আব্বু ডাকবে।চাঁদের আলো গায়ে মেখে কুকিলের ডাক আর শোনা হবে না।
কিন্ত ভাবুন তো মানুষ তাহলে কি একা থাকতে ভালবাসে? এর উত্তরে অনেকেই বলবে না। কিন্ত এ পৃথিবীতে আমি আপনি একা এসেছি আবার একাই চলে যাব।আসার সময় শূন্য হাতে এসেছি,কিস্তু যাওয়ার সময় অনেকই নিয়ে যেতে হবে শত কুটি বেদনা,হতাশা নয়তো শতকুটি পাপের বোঝা। পৃথিবীতে আসার সময় আমরা সকলেই কেঁদেছি,কিন্ত প্রিয়জনরা হেসেছে। আর মৃত্যুর সময় সকলে হয়তো কাঁদবে,কিন্ত আমি বা আপনি কি হাসবো? হয়তো না। কিন্ত আপনি কি জানেন কিছু লোক কিন্ত হাসে। তারা কারা? পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ এসেছেন যারা এ পৃথিবীতে কিছুই চায়নি।তাদের না ছিল হতাশা,না বেদনা, তারা কিন্ত মৃত্যুর সময় ঠিকই হেসেছে।হয়তো এমন মানুষ পৃথিবীতে এখনো আছে।আর একদল মানুষ আছে যাদের চাওয়ার কোন শেষ নাই ,এ দলের মানুষরা মুত্যুর সময় হাসতে পারবে কিনা জানি না। তবে তারা কিন্ত মৃত্যুর সময় মাথায় নিয়ে যায় হাজার কুটি বেদনা, হতাশা।
পৃথিবীতে অনেক মহামানব ছিলেন,যারা তাদের জীবনের অধিক সময় একাকি পাহাড়ের গুহায় বা বনে জংগলে একাকি জীবন কাটায়েছেন, মহান প্রভুর সন্তুস্টি কামনায়।কিন্ত আমরা কেন পারি না একা থাকতে? পৃথিবী আজ এক ক্রান্তিকাল পার করছে। করোনা মহামারির কারনে মানবকুল আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।অথচ আমাদের দেশের কিছু মানুষ প্রিয়জনদের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য তার জীবনও দিয়ে দিচ্ছে।এ পৃথিবীর মানবকুল তথা আপনার প্রিয়জনকে রক্ষা করতে হলে,অবেগ নয় বাস্তবতাকে অনুভব করুন।নিজে বাচুঁন,অন্যকে বাঁচতে সাহায্য করুন।
আসুন একাএকি ভাবী আর চাঁদের আলোয় হ্রদয়টাকে আলোকিত করি। আর হ্রদয় থেকে মুছে ফেলি এ জীবনের সকল দু:খ, কস্ট,বেদনা। তবেই হয়তো আবার আমরা ফিরে যেতে পারবো আগের পৃথিবীতে।