জাতীয়

ইইউ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ইসির বৈঠক 

যত খুশি পর্যবেক্ষক পাঠাতে পারবে ইইউ

স্টাফ রিপোর্টার

 

ইইউর (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে ।

মঙ্গলবার দুপুরে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়।

 

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিনিধি দলের প্রধান ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ চেলেরি রিকার্ডো জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানো হবে কি না, ইইউর উচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত আসবে।

 

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ খেকে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ জানান, জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি জানতে চেয়েছে ইইউ প্রতিনিধি দল। এর আগে ইইউ পর্যবেক্ষক দল গুলশানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতাবাসে ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকের পর ফোরামের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে ইইউর আগ্রহ নেই।

 

বেলা ১১টায় আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে ইইউর প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দল। ইসির সম্মেলনকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন ইইউ প্রতিনিধি দল। ইসির পক্ষ থেকে নির্বাচনের রোডম্যাপ অনুসারে সকল প্রস্তুতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়। সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে যা যা প্রয়োজন সে বিষয়ে সকল প্রস্তুতিই ইসির রয়েছে বলে জানানো হয়। সর্বশেষ ৫ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টিও তাদের কাছে তুলে ধরা হয়।

 

ইসির কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন করে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের সব ধরনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ও তাদের সক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাক নির্বাচনী অনুসন্ধানী দল। এ সময় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে ইসির সক্ষমতা তুলে ধরার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে ইইউর যত খুশি তত পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে সম্মতি জানানো হয়।

 

বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে ইসিকে জানানো হয়, তারা ১৮ বা ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে আবারও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করবে। প্রতিনিধি দলের প্রধান চেলেরি রিকার্ডো আরও জানান, তারা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের পরিবেশ নিয়ে নানা পক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন। তারা যা যা দেখলেন ও জানলেন সে বিষয়ে পরে জানানো হবে। তবে সরকার তাদের আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে।

চেলেরি রিকার্ডো বলেন, নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দুই সপ্তাহের জন্য আমরা বাংলাদেশে এসেছি। পর্যালোচনা শেষে ইইউর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের জানাব। তার পর বাংলাদেশের দ্বদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষণ প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আমাদের কোনো মিডিয়া প্রোফাইল নেই, তাই কোনো প্রশ্ন নিচ্ছি না। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে দুই সপ্তাহের সফরে এসেছি। আমরা প্রাক নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠাব। তবে তাদের এ সফর গণমাধ্যমে গুরুত্ব পাওয়ার মতো না হলেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

 

বৈঠকের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মিস্টার চেলেরি রিকার্ডো যা বলেছেন, সেটাই আমার বক্তব্য। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।

বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধি দলের অন্য পাঁচ সদস্য, সিইসির সঙ্গে অন্য নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button