Home খেলার খবর আসন্ন ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন নির্বাচনে কামরুন্নেসা আশরাফ দীনা সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী

আসন্ন ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন নির্বাচনে কামরুন্নেসা আশরাফ দীনা সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী

401
0
SHARE

জে আর মুন্না ।।

আসন্ন বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন নির্বাচনে কামরুন্নেসা আশরাফ দীনা সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও সাবেক ব্যাডমিন্টন প্লেয়ার।বর্তমানে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ ডিস্ট্রিক কমিটি নেত্রকোনা সংগঠনের তেজী ও ত্যাগী রাজনৈতিক জনপ্রিয় একজন মহিলা।সাবেক ব্যাডমিন্টন প্লেয়ার মিসেস কামরুন্নেসা আশরাফ দীনার খেলাধুলার প্রতি রয়েছে অসম্ভব ভালবাসা ।

দৈনিক সময়ের চিত্র পত্রিকার সাংবাদিক জে আর মুন্নার  সাথে একান্ত আলাপচারিতায় আসন্ন ব্যাডমিন্টন নির্বাচনে বস্তুনিষ্ঠ চিন্তাভাবনা আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। খেলাধুলার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তিনি বিভিন্ন দিকে আলোকপাত করেছেন এবং তা সুন্দরভাবে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিরা পরিবারের মানুষ খেলাধুলার প্রতি তার আলাদা টান থাকবে এটা স্বাভাবিক। শত ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের ক্রীড়া বান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খেলার মাঠে ছুটে যান। খেলাধূলার প্রতি তেমন ভালোবাসার কারণেই ভারতের বিখ্যাত সাবেক ক্রিকেটার ও স্বনামধন্য ধারাভাষ্যকার সূনীল গাভাস্কার  বলেছেন “খেলাধুলার প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভালোবাসা দেখে আমি অভিভূত”। শুধু গাভাস্কারই নন বিশ্বের নামিদামি ক্রীড়া সংগঠক এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন। খেলার প্রতি ভালোবাসার কারণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে নতুনত্ব আনা হয়েছে।

যুবসমাজকে সন্ত্রাস,, জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত এবং সুস্থ স্বাভাবিক জীবন গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ ভালো মানের প্রশিক্ষক যোগ্য ক্রীড়া সংগঠকরাই একটি ক্রীড়ামোদী জাতি গড়ে তুলতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপলব্ধি ও বাস্তবতা থেকে আমি কামরুন্নেসা আশরাফ দীনা (জাতীয় ব্যাডমিন্টন ও ভলিবল দলের  সাবেক খেলোয়াড়) ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছি।

ক্রীড়াবান্ধব  আওয়ামী লীগ  সরকারের সময় বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অগ্রগতি ও অর্জন সম্পর্কে আমি অবগত আছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলেও সত্য যে বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক শতাধিক ক্রীড়া ফেডারেশন এর  প্রতিফলন ঘটেনি,এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যা অত্যন্ত দুঃখ জনক।

যতটুকু জানি নারীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সু-দৃষ্টির কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সাহস পেয়েছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে মাঠে নেমে পডেন।এ খেলাটি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিত খেলে থাকেন।তিনি যখনই সময় পান তখনই র‍্যাকেট হাতে মাঠে নেমে পড়েন। যা দেখে আমাদের দেশের ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়রা অনুপ্রানিত হয়।  এটা অনেক আশার কথা যে,প্রধানন্ত্রীর কাছ থেকে উৎসাহ পেয়েই  বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যাডমিন্টন খেলোয়াডের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।কিন্ত এসব খেলোয়াড়কে পরিচর্যার মাধ্যমে  গড়ে তোলার মতো সংগঠন এখনো পায়নি বাংলাদেশ।

আমি কথা দিচ্ছি নির্বাচিত হওয়ার পর দেশের ব্যাডমিন্টন খেলার প্রসার ঘটাতে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করব। ব্যাডমিন্টন খেলার দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করব। আপাতত এশিয়ার সেরা নয়,সাফ সেরা ব্যাডমিন্টন জাতি হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলা আমার প্রধান লক্ষ্য। আমি সহজভাবে বলতে পারি যদি ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমাকে কাজ করার সুযোগ করে দেয়া হয় তবে অচিরেই বাংলাদেশ পাবে ভারতের স্বর্ণজয়ী শাটলার কিদাম্বি শ্রীকান্ত বা মালয়েশিয়ান তারকা শাটলার গো লিউ ইং’য়ের মত খেলোয়াড়।

কারণ আমি নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে তৃণমূল পর্যায় থেকে ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় সংগ্রহের নামবো।দীর্ঘ মেয়দী প্রশিক্ষনের মাধ্যমে শাটলারদের বিশ্বমানের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টায় থাকবে আমার প্রধান লক্ষ্য।ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে আমি প্রাথমিকভাবে ১২টি  বিষয়ের উপর অধিক গুরুত্ব দেব।

এগুলো হচ্ছে

১। বিভাগীয় ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা আয়োজন

২। নিয়মিত জেলা লীগ করা

৩।আন্তঃজেলা ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়নশিপ করা

৪। জাতীয় যুব ব্যাডমিন্টন

৫। স্কুল ব্যাডমিন্টন

৬।নারী টুর্নামেন্ট

৭। আদিবাসী টুর্নামেন্ট

৮। প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি

৯। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে জাতীয় দল গঠন প্রক্রিয়া

১০। হাই পারফরম্যান্স কমিশন গঠন

১১। কম্পেটিশন কমিশন গঠন

১২।মনিটরিং কমিটি গঠন

এছাড়া প্রতিটি কাজে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণসহ খেলোয়াডদের  স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

আমার লক্ষ্য থাকবে ব্যাডমিন্টনের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা। মূলতঃ দেশের ব্যাডমিন্টন এর অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং  জনপ্রিয় খেলাটিকে বাঁচাতেই আমি সাধারন সম্পাদক প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচিত হলে ফেডারেশন থেকে আমি কিছু নেব না বরং ফেডারেশনকে কিছু দেওয়ার জন্য আমার প্রার্থী হওয়া।

সকলের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে আমি দেশে ব্যাডমিন্টন উন্নয়ন কাজে এগিয়ে যেতে চাই ।আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের ব্যাডমিন্টনকে জাগিয়ে তুলি।কারণ ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে সংগঠকদের মাঝে নানা কলহের জন্য বিগত কয়েক বছর ধরে জনপ্রিয় এই খেলাটি অসুস্থ হয়ে বর্তমানে আইসিউতে রয়েছে বলে আমি মনে করি।

ব্যাডমিন্টন কে বাঁচাতে সকলের এগিয়ে আসার সময় এখনই। পরিশেষে একটি কথাই বলবো আপনারা আমাকে নির্বাচিত করলে আমাদের প্রিয় এই খেলাটির উন্নয়ন আমি নিজেকে বিলিয়ে দেব। দেশের উন্নয়নের সাথে আমি খেলাধুলা উন্নয়নে বিশ্বাসী একজন ক্রীড়া জগতের মানুষ।

image_print