Home মতামত আপনার শিশুকে স্কুলে পাঠান

আপনার শিশুকে স্কুলে পাঠান

150
0
SHARE

 

মিজানুর রহমান পলাশ।।

সাজ্জাদ হোসেন দোদুল, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে। পড়ালেখায় বরাবরই ভালো ছাত্র দোদুল। করোনা ভাইরাসের কারণে বহুদিন স্কুল বন্ধ ছিলো। সেসময় অনলাইন ক্লাসেও নিয়মিত ছিলো সে। চতুর্থ থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে দোদুল যথারীতি প্রথম স্থান লাভ করেই উত্তীর্ণ হয়েছে। করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা কিছুটা কমে আসার পর স্কুল খুললে দোদুল নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। ভালো ছাত্র বলেই সে খোলার পর প্রথম দিন থেকে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া স্কুলের বন্ধুদের সাথে যে অনেকদিন দেখা হয় না, খেলা হয় না; বন্ধুদের সাথে আবার অনেকদিন পর দেখা হওয়ার ইচ্ছে থেকে বা তাদের সাথে খেলার সুযোগ পেয়ে দোদুল যেন আগের তুলনায় বেশি স্কুল অন্তপ্রাণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সকল শিক্ষার্থীতো তার মতো নয়। স্কুল খোলার পর প্রথম কয়েকদিন নিয়মিত আসলেও তারপরই তাকে আর দেখা যাচ্ছে না। করোনা ভাইরাসের ফলে অনেক দেশের মতোই আমাদের দেশেও কিছু শিশু স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে। বর্তমান সরকার দক্ষতার সাথে এ বিষয়টি দেখেছে বলেই স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিশুর সংখ্যা নগণ্য।

কিন্তু করোনা মহামারির কারণে দেড় বছর আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। যদিও শিশুদের একটি বড় অংশ অনলাইনে ক্লাস করে নিজেদেরকে যেন অনেকটা মানিয়ে নিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ছেড়ে তাদের কারো কারো ক্লাসে বা স্কুলে উপস্থিত হতে তাই তাদের আগ্রহ কম। আবার দোদুলের মতো অনেকেই স্কুলে যেতে পেরে বা অনেক দিন পর বন্ধুদের সাথে দেখা হওয়ার আনন্দে আগ্রহ নিয়ে স্কুলে যেতে চায়। আবার একই সাথে শিশুদের বড় একটা অংশ দীর্ঘদিন স্কুলে না যাওয়ার কারনে সবমিলিয়ে ভীত ও উদ্বেগের মধ্যে থাকতে পারে।

কিন্তু এসময় পরিবার ও শিক্ষকদের তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসতে হবে। শিশু করোনা মহামারির ভয়ে ভীত হতে পারে। তারা খুব কাছ থেকে নিজেদের কাছের মানুষদের করোনার বিরুদ্ধে সাবধান ও সতর্ক হতে দেখেছে। অভিভাবকরা তাদেরকে নিয়েও চিন্তিত ছিলো। স্বাস্থ্যবিধি মানার সাথে সাথে অভিভাবকদের আতংকিত হতে দেখেছে তারা। এ ব্যপারে তারা কড়াকড়ি দেখেছে পরিবারের মধ্যে। তাই তারা ভীত হতেই পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি খুবই স্বাভাবিক । টিভি বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা করোনার আতঙ্কজনক চিত্র দেখেছে। তারা কোভিড আতংকে ভুগতেই পারে। স্কুলে গেলে সংক্রমিত হওয়ার ভয় তাদের মাঝেও আসতেই পারে। তাই তারা স্কুলে যেতে নাও চাইতে পারে। শিশুর এই অবস্থাকে বড় কিছু মনে করার কোনো কারণ নেই। তাদেরকে সহজ ও স্বাভাবিক বা আস্বস্ত করতে পারলে তারা স্কুলে যেতে চাইবে। তাদেরকে বোঝাতে হবে যে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখলে সংক্রমিত হওয়ার ভয় নেই। তাছাড়া তাদেরকে বোঝাতে হবে যে, শিক্ষকদের অধিকাংশই করোনাভাইরাসের দুই ডোজ টিকা নিয়েছে। তাই তাদেরকে ভয় পেতে বা ভীত হতে বারণ করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও সরকার কিছু দায়িত্ব ও করণীয় নির্ধারণ করে দিয়েছে। এসব শর্ত, করণীয় ও দায়িত্ব ঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কিনা, তা খুব গুরুত্বসহকারে কর্তৃপক্ষ কতৃক পর্যবেক্ষণ করার বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। সংক্রমিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখলেই বিদ্যালয় আবার বন্ধ করতে পারে সরকারের এমন নির্দেশনাও রয়েছে। এই বিষয়টিও ভালোভাবে বুঝিয়ে শিশুদেরকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি বা স্কুলের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। স্কুল বন্ধ থাকার সময় শিক্ষার্থীররা যেন অনলাইনে ক্লাস করতে পারে বা প্রয়োজনীয় সংখ্যক সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে, সেজন্য বাংলাদেশ সরকারকে সর্বাত্বক সাহায্য করেছে ইউনিসেফ। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর জন্য যখন স্কুল বন্ধ ছিলো, সেসময় বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সাহায্য করেছে ইউনিসেফ। তারা শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য অনলাইন, রেডিও, টেলিভিশন এর মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম ডিজাইন করা এবং প্রচারে সরকারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করেছে। জ্ঞান বিনিময় এবং সক্ষমতা তৈরিতেও ইউনিসেফ বাংলাদেশ সরকারকে সাহায্য করেছে।

শিক্ষাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে বা মানুষকে আলোকিত করতে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত কার্যক্রমগুলোর মধ্যে শতভাগ ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ কার্যক্রম অন্যতম। নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরে চালু হয়েছে উপবৃত্তি ব্যবস্থা। বর্তমান সরকারের সময় ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুন করে জাতীয়করণ করা হয়েছে, বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের চাকুরি সরকারিকরণ করা হয়েছে। ১৯৯০ সালে স্কুলে ভর্তি হওয়া শিশু ছিলো ৬১ শতাংশ। বর্তমানে তা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ শতাংশে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য যারা মেধাবী ও গরীব, তাদেরকে “শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন ২০১২ এর আওতায় আনা হয়েছে। ২০১০ সালে স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শতাংশ ছিল ৩১%। ২০১৯ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১৭%-এ। বর্তমান সরকার শিশু শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে। এই সাফল্যকে অব্যাহত রাখতে সকল শিশুকে স্কুলে পাঠানো আমাদের দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের রুপকল্প বাস্তবায়নে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মানে আমাদের শিশুদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের সকলের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া আমাদের কর্তব্য। দেশের একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে সাহায্য করুন।

#

সাবেক ক্রিড়া সাংবাদিক, দৈনিক জনকণ্ঠ।

পিআইডি- শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক যোগাযোগ কার্যক্রম (৫ম পর্যায়) প্রকল্প কার্যক্রম।

 

 

 

 

 

 

image_print