আওয়ামী লীগের মনোনয়ন যাচাই করে দেয়ার দাবি তৃণমূল নেতাদের 

বিশেষ প্রতিনিধি:

সারাদেশ থেকে আগত ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা। সর্বাত্মক নির্বাচনী প্রস্তুতির বার্তা নিয়ে এলাকায় ফিরে গেলেন ।

 

দীর্ঘদিন পর দলীয় সভাপতিকে সামনে পেয়ে মন উজাড় করে তৃণমূল নেতারা নির্বাচনের সামনে অনেক পরামর্শ তুলে ধরেন। নির্বাচনের আগে সারাদেশের তিনশ’ আসনের যেখানে সংগঠনে বিভেদ-গ্রুপিং-দ্বন্দ্ব আছে তা দ্রুত নিরসনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে দাবি জানিয়েছেন।

 

 

কিছু মন্ত্রী-এমপিসহ জনপ্রতিনিধিদের কঠোর সমালোচনা করে তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৌকা নিয়ে বিজয়ী হয়ে এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়ররা ত্যাগী নেতাদের খোঁজখবর রাখেন না। দুর্দিনের কর্মীদের মূল্যায়ন করেন না। আপনার আদেশ অমান্য করে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ কাজ করলে তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করতে হবে। আওয়ামী লীগে নেতার অভাব হবে না। তবে বেশিরভাগ তৃণমূল নেতাই সব ভেদাভেদ ভুলে আগামী নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলকে বিজয় উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে।

 

 

বৈঠক সূত্র জানায়, তৃণমূল নেতাদের এসব দাবির জবাবে

 

 

নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সামনে নির্বাচন। এই নির্বাচনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে হবে। আমি প্রতি ছয় মাস পর পর জরিপ করি। সেই জরিপের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

 

যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার পক্ষে কাজ করবেন কি না আপনারা ওয়াদা করুন। এ সময় উপস্থিত প্রায় সাড়ে তিন হাজার নেতা-জনপ্রতিনিধি দুই হাত তুলে ওয়াদা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের ধন্যবাদ! জনগণের কাছে যান, সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড তাদের সামনে তুলে ধরে মন জয় করুন। জনগণের মন জয় করে সামনের নির্বাচনে বিজয়ের পতাকা নিয়ে আবার গণভবনে আসবেন। আপনাদের আসার আমন্ত্রণ থাকল।

 

 

রবিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় সমাপনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে। শত সংগ্রামে, অজস্র গৌরবে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ‘বিশেষ বর্ধিত সভা’র সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল সাড়ে দশটায় সভা শুরু হয়ে সোয়া দুটায় খাবার ও নামাজের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। বিকেল তিনটা ৫ মিনিটে সভা শুরু হয়ে সোয়া পাঁচটার দিকে শেষ হয়। দ্বিতীয় অধিবেশন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই পরিচালনা করেন।

 

 

তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, সবাই মিলে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদের একমাত্র শক্তি জনগণ। আমরা কারও কাছে মাথা নত করি না। আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যাকে মনোনয়ন দেবে তাকে জয়যুক্ত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

 

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপিকে মানুষ ভোট দেবে না। কারণ, তারা সন্ত্রাস করে। আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করে। তাদেরকে কেউ ভোট দেবে না। জনগণের ভোট না পেয়ে তারা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করবে। বিদেশী প্রভুদের কাছে ধরনা দিচ্ছে। কিন্তু কোনো কাজ হবে না। বিএনপির অপকর্মের বিরুদ্ধে আপনারা যার যার অবস্থান থেকে সোচ্চার থাকুন। তিনি বলেন, আমি আপনাদেরকে সঙ্গে আজ ৪২ বছর। আমার ওপর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমি প্রতিটি গ্রামে গিয়েছি। মানুষের দুঃখ কষ্ট বোঝার চেষ্টা করছি।

 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। আমাদের দল যেমন বড়, তেমনি নেতাকর্মীর সংখ্যাও অনেক। অনেক যোগ্য ব্যক্তি আছেন, যাদেরকে আমরা মনোনয়ন দিতে পারি না। প্রয়োজনে যেখানে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, সেখানেই তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন। কোনো ভেদাভেদ করা যাবে না। সামনে নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করে বিজয়ী পতাকা নিয়ে গণভবনে আসবেন, সেই আমন্ত্রণ রইল।

 

 

এই বিভাগের আরো খবর