Home অর্থ ও বানিজ্য
16
0
SHARE

প্রান্তিক জনগোষ্ঠির অর্থনীতি সচল থাকলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে : শিল্পমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রান্তিক জনগোষ্ঠির অর্থনীতি সচল থাকলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি। তৃণমূল উদ্যোক্তারা যেভাবে অর্থনীতিকে সচল রেখেছে, তাতে করোনা মহামারীর মধ্যেও জীবন ও জীবিকা চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ প্রদানে যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। করোনার মহামারীর মধ্যে জাতীয় অর্থনীতি সচলের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ পালন করছে।

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় কোভিড-১৯ এর প্রথম ঢেউ যেভাবে মোকাবেলা করা হয়েছে, সেভাবেই আমরা দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলা করতে সক্ষম হচ্ছি। তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রথম করোনা ভারাইস প্রতিরোধে টিকা প্রদানে সক্ষম হয়েছে। এ টিকা তৃণমূল পর্যায়ে পৌছে দিতে আমরা সক্ষম হয়েছি।

করোনা মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং পল্লী এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য  প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দ্বিতীয় দফার প্রণোদনার আওতায় এসএমই ফাউন্ডেশনের ‘ক্রেডিট হোল সেলিং’ ঋণ কর্মসূচির উদ্বোধন এবং ঋণের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো: মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাননীয় শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি এবং শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ব্যাংক এশয়িার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরচিালক মোঃ আরফান আলী এবং উপব্যবস্থাপনা পরচিালক মোঃ জয়িাউল হাসান মোল্লা। এতে অন্যদের মধ্যে ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড ও এসএমই ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ব্যাংক এশয়িার পক্ষ থেকে ২জন নারীসহ মোট ৮জন উদ্যোক্তার মাঝে ৬৩.৯০ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

 বিশেষ অতিথি বক্তব্যে শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, সত্যিকারে যারা প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য, তারাই যেন প্রণোদনা ঋণ পায়। প্রণোদনা ঋণ পেতে উদ্যোক্তারা যেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অযথা হয়রানীরে স্বীকার না হয়।  তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য নেতৃত্বে করোনা মহামারির প্রভাব সফলভাবে মোকাবেলা করে আমরা অদম্য অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রতিও আমাদের বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। বিশেষ প্রনোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন তিনি।

বিশেষ অতিথি বক্তব্যে শিল্পসচিব বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ তুলে দিতে হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক নারী ও শারীরিকভাবে অক্ষম উদ্যোক্তাদের গুরুত্ব দিয়ে এই ঋণ বিতরণ করতে হবে। তৃণমূল উদ্যোক্তারা উপকৃত হলেই এসএমইখাতের প্রকৃত উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ্য, প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় উদ্যোক্তাগণ ৪% সুদে ঋণ পাবেন। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের পরিমাণ হবে সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২৪টি সমান মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করা যাবে। এসএমই ফাউন্ডেশনের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে চলতি অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকা এবং আগামী অর্থবছরে ২০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। এই ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে সরকার নির্দেশিত সব ধরনের নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে। ইতোমধ্যেই ১১টি ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে ঋণ বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। প্রণোদনা প্যাকেজের মোট ঋণের ২৫-৩০% নারী-উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।