অবরোধ: মাঠে নেই বিএনপি, কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক: 
বিএনপি-জামায়াতসহ দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দল আজ মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) থেকে টানা ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে। তবে অবোরোধ ডেকে রাজধানী ঢাকা নেই, নেতা কর্মীরা। বিএনপির মুল ফটকে তালা ঝুলছে। কোন নেতাকর্মীকে নেই। সামনে পুলিশ পাহারা রয়েছে। এ দিকে অবরোধে নাশকতা ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ জানিয়েছে, অবরোধের নামে দুর্বৃত্তরা সহিংসতার চেষ্টা করলে তা প্রতিরোধে প্রয়োজনে অ্যাকশনে যাওয়া হবে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাখা হয়েছে ডিএমপি সাঁজোয়া যান ও জলকামান। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্সও রিজার্ভ রাখা হয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করছেন। এই তিনদিন তারা উন্নয়ন স্থাপনাসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন।

গতকাল সোমবার (২৯ অক্টোবর) হরতাল পালনের পর একদিন বিরতি দিয়ে বিএনপি-জামায়াতসহ দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দল মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) থেকে তিনদিনের সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সড়ক-মহাসড়ক ছাড়াও নৌ ও রেলপথও অবরোধেও আওতায় রয়েছে।

কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো ধরনের ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য সারাদেশে প্রস্তুত রয়েছে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী। আনসার, পুলিশ, র‌্যাবের পাশাপাশি মাঠে রয়েছে বিজিবি। নাশকতার চেষ্টা হলে মাঠে পুলিশ ও র‌্যাব কঠোর অবস্থানে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর পক্ষ থেকে এমন ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ থেকে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এতে একজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৪১ পুলিশ সদস্য আহত হন। এমন পরিস্থিতি মাথায় রেখে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা তিন দিনের অবরোধে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে।

অবরোধ চলাকালীন আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও নাশকতার তথ্য থাকলে ৯৯৯-এ কল করে তথ্য জানাতে পুলিশ সদর দফতর থেকে বলা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন গণমাধ্যমকে বলেন, অবরোধে জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষা করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‌্যাব। দেশব্যাপী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব ফোর্সেসের ১৫ ব্যাটালিয়নের তিন শতাধিক টহল দল নিয়োজিত থাকবে। পাশাপাশি দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম চলবে। কেউ যদি কোনো ধরনের নাশকতা কিংবা সহিংসতার পরিকল্পনা করে তাকে সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‌্যাবের স্পেশাল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স রিজার্ভ রাখা হয়েছে। নাশকতা ও সহিংসতা প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক দেশব্যাপী নিয়োজিত থাকবে র‌্যাব।

অবরোধে সহিংসতা মোকাবিলায় ঢাকাসহ সারা দেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির দায়িত্বরত কর্মকর্তা লে. কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, সোমবার রাত থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিজিবির টহল অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশে বিজিবি টহল দেবে। যেকোনো সহিংসতা বা অগ্নিসন্ত্রাস প্রতিরোধ মোকাবিলা করবে বিজিবি। তবে কত প্লাটুন বিজিবি নামানো হয়েছে সে ব্যাপারে তথ্য দেননি তিনি।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)র রেপিট একশন টিম (আরএটি)’র সেক্টেন কমান্ডার আবরার মেহের নয়া পল্টনে গন মাধ্যমকে জানান, আরএটি এখন থেকে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. হাবীবুর রহমান বলেন, অবরোধের নামে কোনো ধরনের নাশকতা বা সহিংসতার সৃষ্টি করলে ছাড় দেবে না পুলিশ। জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। সহিংসতা ও নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে অ্যাকশনে যাবে পুলিশ।

ডিএমপি সূত্র জানায়, সহিংসতা বা আগুনসহ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিএমপির ৫০ থানার পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। কেউ গুপ্ত হামলা চালিয়ে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের চেষ্টা করলে ডিএমপির একাধিক গোয়েন্দা টিম তাদের প্রতিহত করবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও সাউন্টগ্রেনেড।

এই বিভাগের আরো খবর