Home অন্যান্য ধর্মের নামে যারা সন্ত্রাস- জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করছে, তারা  ইসলামের সর্বনাশ করছে: প্রধানমন্ত্রী

ধর্মের নামে যারা সন্ত্রাস- জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করছে, তারা  ইসলামের সর্বনাশ করছে: প্রধানমন্ত্রী

11
0
SHARE

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ধর্মের নামে যারা সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করেছেন তারা শান্তির ধর্ম ইসলামের সর্বনাশ করেছেন।

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ প্রতিহত এবং এই সর্বনাশা পথে যেন দেশের যুব সমাজ জড়িয়ে না পড়ে সেজন্য দেশের আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেছেন, মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ তৈরি করে, মানুষ খুন করে, বোমা মেরে, খুন-খারাবি করে আমাদের পবিত্র ধর্মের নামে বদনাম সৃষ্টি করছে। যেটা আমাদের ধর্মের পবিত্রতাকেই কেবল নষ্ট করছে না, এর ইমেজটাও নষ্ট হচ্ছে সারাবিশ্বে। জঙ্গীবাদ বা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যারা জড়িত, এই পথ সর্বনাশা পথ। এই পথ থেকে আমাদের যুবসমাজ যেন দূরে থাকে, আমাদের সকলকে সেই প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সারাদেশে গড়ে তোলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো ইসলামের চর্চা, প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে এর মর্মবাণী মানুষকে অনুধাবন করানোসহ সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ-মাদক ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে জনসচেনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। আমরা মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। এখানে ইসলামের মূল্যবোধ ও চর্চা যেন ভালভাবে হয়। ইসলামের সংস্কৃতির বিকাশ যাতে ভালমত হয়। ইসলামের মর্মবাণী যেন মানুষের কাছে পৌঁছায়।সারাদেশে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় অপূর্ব স্থাপস্থ্যশিল্প ও দৃষ্টিনন্দন ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে এক সঙ্গে ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধনের মাধ্যমে সারাবিশ্বে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটাই হচ্ছে বিশ্বে প্রথম কোন সরকারের একই সময়ে একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক মসজিদ নির্মাণের ঘটনা, যা বিশ্বে বিরল। এসব মডেল মসজিদ নির্মাণ করতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। স্বপ্নের পদ্মা বহুমুখী সেতুর পর নিজস্ব অর্থায়নে এটা সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রকল্প। আগামী দুই বছরের মধ্যে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ শেষ হবে। নান্দনিক নির্মাণশৈলীতে নির্মিত এসব মডেল মসজিদে রয়েছে একটি করে দৃষ্টিনন্দন মিনার। মূল মসজিদটি হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।

মডেল মসজিদ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে তাঁর সরকার সন্ত্রাস-মাদক ও জঙ্গীবাদবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে কমিটি করে সন্ত্রাস এবং জঙ্গীবাদের পাশাপাশি মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পাশবিকতার বিরুদ্ধেও এই সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এই মসজিদগুলোও আমরা সেভাবেই তৈরি করতে চেয়েছি যেখানে ইসলাম সম্পর্কে সব ধরনের প্রচার ও প্রসার এবং এই ধর্ম সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান যেন আরও বৃদ্ধি পায়।

সরকারের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে সর্বমোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে এই ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ধর্ম মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ সংক্রান্ত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোঃ ফরিদুল হক খান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নুরুল ইসলাম স্বাগত বক্তৃতা করেন। গণভবন থেকে মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ পিএমও এবং গণভবনের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু’ বাংলাদেশের ইসলাম প্রচারের পথিকৃৎ’ শীর্ষক একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান থেকে খুলনা জেলা মডেল মসজিদ, রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ এবং সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলা মডেল মসজিদের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

দেশে এবং বিদেশে যারা ধর্মের নামে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করছে তথা মানুষ খুন করছে তারা শান্তির ধর্ম ইসলামের সর্বনাশ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি সারাবিশে^ সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম হচ্ছে ইসলাম ধর্ম। কিন্তু মুষ্টিমেয় লোক জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করে খুন খারাপি করে, বোমা মেরে আমাদের এই ধর্মের নামে বদনাম ছড়াচ্ছে। এরা ধর্মের পবিত্রতাই শুধু নষ্ট করছে না, সমগ্র বিশ্বে এর ‘ইমেজ’র ক্ষতি করছে।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি এই ধর্মের নাম নিয়ে কীভাবে জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করা হয়েছে। কিছু লোক, শুধু আমাদের দেশে না, সারাবিশ্বেই দেখেছি ধর্মের নামে মানুষ খুন করা! মানুষকে খুন করলেই নাকি বেহেশতে চলে যাবে। এখানে আমার প্রশ্ন, যারা এতদিন মানুষ খুন করেছেন, তারা কে কে বেহেশতে গেছেন, সেটা কি কেউ বলতে পারবে? বলতে পারবে না।

লেবাসধারী মুসলমানদের প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি বক্তব্যের উদ্বৃত করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- আমরা লেবাস সর্বস্ব ইসলামে বিশ্বাসী নই, আমরা বিশ্বাসী ইনসাফের ইসলামে।’ তিনি বলেন, কিছু মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের কর্মকাÐে সবচেয়ে সর্বনাশ করে গেছে পবিত্র ইসলাম ধর্মের, যে ধর্ম শান্তির ধর্ম। যে ধর্ম মানুষকে অধিকার দিয়ে গেছে। আমি তো মনে করি, সারা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধর্ম হলো ইসলাম ধর্ম। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, কিছু লোক জঙ্গীবাদ তৈরি করে, মানুষ হত্যা করে, খুন-খারাবি করে আমাদের এই পবিত্র ধর্মের নামে বদনাম সৃষ্টি করছে।

বিশ্বের কোথাও জঙ্গীবাদ হলেই যেভাবে ‘ইসলামিস্ট জঙ্গী’ বলা হয়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তার প্রতিবাদ করার কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমি সব সময় প্রতিবাদ করেছি যে, মুষ্টিমেয় লোকের জন্য কোন ধর্মকে কখনও অপরাধী করা যায় না। আমাদের ওলামায়ে কেরামরা এখানে আছেন, অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মী সকলকে আমি আহŸান জানাবোÑ এই সর্বনাশা পথ থেকে আমাদের যুব সমাজ যেন দূরে থাকে সেজন্য সকলকে প্রচেষ্টা চালাতে হবে, দেশের মানুষকে দূরে সরাতে হবে।

তিনি বলেন, ধর্ম চর্চা করতে হলে আল্লাহর ওপর বিশ^াস রেখে মানুষের সেবা ও কল্যাণ করতে হবে। মানুষের অকল্যাণ করে বা মানুষ হত্যা করে একটি পরিবারকে ধ্বংস করে কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না। তিনি বলেন, মাদক আজকে আমাদের সমাজকে একেবারে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। এই মাদকের হাত থেকে যেন মানুষকে মুক্ত রাখতে পারি সেজন্য সকলকে আরও সচেতন থাকতে হবে।

এই মডেল মসজিদগুলো নির্মাণ করা তাঁর দলের অনেক পুরনো সিদ্ধান্ত এবং এটি তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারেও ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মসজিদগুলোর মাধ্যমে আমাদের ইসলামের সংস্কৃতি, ধর্মীয় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, দ্বীনি দাওয়াতি কার্যক্রম এগুলোর যাতে সঠিকভাবে পরিচালনা এবং প্রচার ও প্রসার ঘটানো যায় এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ এগুলো থেকে যাতে মানুষ দূরে থাকে এবং আমাদের ধর্মের যে মূলবাণী সেটা যেন মানুষ শিখতে পারে, জানতে এবং চর্চা করতে পারে।

সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে যদি আমরা দেখি সারাবিশ্বে সবকিছুতেই মুসলামানরা আগে বেরিয়ে এসেছে এবং সবসময় মুসলামানরাই সামনে ছিল। সভ্যতার দিক থেকে মুসলমানরাই সবথেকে আগে ছিল। চিকিৎসা শাস্ত্র বলি, এস্ট্রলজি বলি, বিজ্ঞান চর্চা বলি সবকিছুতেই অগ্রণী ছিল মুসলমানরা। আজকে কেন মুসলমানরা পিছিয়ে থাকবেÑ সেটাই আমার প্রশ্ন।

ইসলামের প্রচার ও প্রসারে ভ‚মিকা রাখার পাশাপাশি সন্ত্রাস ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ সম্পর্কে জনসচেনতা বৃদ্ধিতে এসব মসজিদ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মসজিদগুলো করেছি সেখানে কোরান চর্চার জন্য হিফজখানা, হজযাত্রী ও ইমামদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মুসল্লিদের জ্ঞান আহরণের জন্য মসজিদে নববীর আদলে ইসলামিক লাইব্রেরির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, মসজিদ কমপ্লেক্সের মধ্যে পৃথক ভবনে ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে থাকবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অফিস, কনফারেন্স হল, গবেষণা কক্ষ, প্রতিবন্ধী কর্নার, হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন ও বিদেশী মুসল্লিদের আবাসনের ব্যবস্থা ইত্যাদি। মসজিদগুলোতে বিদেশী মুসল্লিরা আসলে তাঁদের আতিথেয়তা প্রদানও আমাদের দায়িত্ব। সে চিন্তা থেকেই তাঁদের আবাসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই যে, আমাদের ধর্ম সম্পর্কে মানুষ যাতে সচেতন হয়। মডেল মসজিদে নারীদের নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে কারণ, একমাত্র ইসলাম ধর্মেই নারীদের সমঅধিকারের কথা বলা হয়েছে। পৈতৃক সম্পত্তি এবং স্বামীর সম্পত্তিতে তাঁদের অধিকারও ইসলাম ধর্মই নিশ্চিত করেছে। যা অন্য কোন ধর্মে নাই। ইসলামের মর্মবাণী যেন এদেশের মানুষ জানতে পারে, বুঝতে পারে। আমরা বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করি, স্ব স্ব ধর্ম যতœ সহকারে লালন-পালন করি এবং সংরক্ষণ করি। ইসলাম আমাদেরকে সেই মানবতার শিক্ষাই দিয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজর ধর্মপ্রাণ খাঁটি মুসলমান ছিলেন উল্লেখ করে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু সকল ধর্মের প্রতি মর্যাদা যেমন দেখিয়েছেন, তেমনি মাত্র সাড়ে ৩ বছরের শাসনামলে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে তিনি অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। জাতির পিতা ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড গঠন করেন। রেসকোর্স ময়দানে ঘোড়দৌড় ও জুয়া বন্ধ করেন, আইন করে মদ নিষিদ্ধ করেন। টঙ্গীতে বিশ্ব এজতেমার জন্য জায়গা বরাদ্দ ও কাকরাইলে তবলীগের মারকাজ মসজিদের জন্য জমি বরাদ্দ প্রদান করেন, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের শুরু এবং সমাপ্তিতে কোরান তেলাওয়াতের ব্যবস্থা করেন। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং এ দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে জাতির পিতা ওআইসি সম্মেলনেও যোগদান করেন।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ১৯৭২ সালে অনুষ্ঠিত পবিত্র সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে জাতির পিতার ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জাতির পিতা বলেন- ‘ধর্ম নিয়ে ব্যবসা আর নয়। ধর্মের নামে শোষণ উৎপীড়ন আর চলবে না। রাজনীতির ক্ষেত্রে ধর্মকে টেনে এনে স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা আর কেউ করতে পারবে না। এরপরও যদি কেউ ধর্মকে মূলধন করে ব্যবসায় নামেন, তবে তাকে সমুচিত ফল ভোগ করতে হবে। এ দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের সবাই তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় অধিকার পূর্ণভাবে ভোগ করতে পারবে। কারও ধর্মীয় অধিকারে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা এটাই বিশ্বাস করতেন এবং আমাদের সংবিধানে যে ধর্ম নিরপেক্ষতা দিয়েছেন তার অর্থ হচ্ছে- যার যার ধর্ম সে সে স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবেন। স্বাধীনতা বিরোধীদের অপপ্রচারের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতা দিয়ে ধর্মকে কিন্তু তিনি নিষিদ্ধ করেননি। বরং ধর্ম পালনের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

ভোট দিয়ে তাঁর সরকারকে দেশ সেবার সুযোগ প্রদানের জন্য দেশবাসীকে পুনর্বার ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশবাসী আমাদের সমর্থন ও ভোট দিয়ে তাঁদের সেবা করার সুযোগ করে দিয়েছে বলেই সপরিবারে জাতির পিতা হত্যার মতো ঘৃণ্য হত্যাকাÐের বিচার করতে পেরেছি। বাংলাদেশ আজ সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। সারাবিশ্বে এ দেশের মানুষ মর্যাদার সঙ্গে মাথা উঁচু করে চলবে।

পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে খুলনা, সিলেট ও রংপুরের বদরগঞ্জে নির্মিত মডেল মসজিদ এলাকার মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মসজিদ করা হলো, সবাই এর যতœ নেবেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন যেন থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন এবং যতœ নিয়ে ব্যবহার করবেন যেন এটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। সত্যিকার ইসলাম ধর্মের মমবাণী যেন এদেশের মানুষ বুঝতে পারে, জানতে ও শিখতে পারে। শুধু আমাদের দেশে নয়, আমরা যে ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করি, সব ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, আমরা স্ব স্ব ধর্ম যতœ সহকারে লালন-পালন করি এবং অনুসরণ করি- সেগুলো আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরতে হবে। কারণ ইসলাম আমাদের সেই মানবতার শিক্ষাই দিয়েছে। এ সময় বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব যেন করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পায় সেজন্য সবাইকে দোয়া করার আহŸানও জানান প্রধানমন্ত্রী।

যা থাকছে এসব দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদে \ বিশ্বে প্রথম কোন সরকারের একই সময়ে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক মসজিদ নির্মাণের ঘটনা, যা বিশ্বে বিরল। সারাদেশে মডেল মসজিদ ও সংস্কৃতি কেন্দ্র নির্মাণের কাজ দ্রæত এগিয়ে চলেছে জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক মোঃ নজিবুর রহমান বলেন, সারাদেশে মডেল মসজিদ ও সংস্কৃতি কেন্দ্র নির্মাণের কাজ দ্রæত এগিয়ে চলেছে। আগামী অর্থবছরের মধ্যে আরও ১০০ মডেল মসজিদ চালু করা যাবে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের মোট কাজের ৩৬ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে ৫৬০টি মডেল মসজিদের সবগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এসব মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নারী ও পুরুষের আলাদা ওজু ও নামাজের জায়গা, লাইব্রেরি, গবেষণা কেন্দ্র, ইসলামী বই বিক্রয় কেন্দ্র, কোরান হেফজ বিভাগ, শিশু শিক্ষা, অতিথিশালা, বিদেশী পর্যটকদের আবাসন, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, হজযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণ, অটিজম কেন্দ্র, গণশিক্ষা কেন্দ্র, ইসলামী সংস্কৃতি কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা এবং গাড়ি রাখার জায়গা রাখা হয়েছে।

সারাদেশে এসব মসজিদে প্রতিদিন চার লাখ ৯৪ হাজার ২০০ জন পুরুষ এবং ৩১ হাজার ৪০০ জন নারী একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারবেন। একসঙ্গে প্রায় ৩৪ হাজার মানুষ কোরান তেলাওয়াত করতে পারবেন, ৬ হাজার ৮০০ জন ইসলামিক বিষয়ে গবেষণা করতে পারবেন, ৫৬ হাজার মানুষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিতে পারবেন এবং প্রতি বছর এখান থেকে ১৪ হাজার কোরানে হাফেজ হবেন। অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মুসল্লিদের নামাজ কক্ষে সহজে প্রবেশের সুবিধার্থে র‌্যাম্পও স্থাপন করা হয়েছে। মডেল মসজিদগুলো শুধু নামাজ পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, এখানে ইসলামী সংস্কৃতির চর্চার পাশাপাশি জ্ঞানার্জন ও গবেষণার সুযোগ থাকবে, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।