Home প্রধান খবর ” অনন্য উচ্চতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা”

” অনন্য উচ্চতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা”

105
0
SHARE

ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার ( সিআইপি ): 
আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬ তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার মাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা । তিনি পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু টুঙ্গিপাড়ায় এক পাঠশালায় । ১৯৫৪ সালে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর পরিবার নিয়ে পুরান ঢাকার রজনী বোস লেনের ভাড়া বাসায় ওঠেন । বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্তীসভার সদস্য হলে সপরিবারে ৩ নম্বর মিন্টু রোডের বাসায় বসবাস শুরু করেন । শেখ হাসিনাকে টিকাটুলীর নারী শিক্ষা মন্দিরে ভর্তি করা হয় । তিনি ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা কলেজ ) থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন । ওই বছরই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন ।
ছাত্রলীগর নেত্রী হিসাবে তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলন এবং ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন । ১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিয়ে হয় । মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই শেখ হাসিনা গৃহবন্দি অবস্থায় তার প্রথম সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় জন্ম নেন । ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর কন্যা পুতুলের জন্ম হয় ।
১৯৭১ সালের ২৫ শে মাচ্র্ রাতে শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী গ্রেফতারের সময় তিনি ধানমন্ডি ৩২ নম্বর রোডের বাসায় পিতার পাশেই ছিলেন । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের গ্রেফতারের পর তিনি মায়ের সঙ্গেই-বোনদের নিয়ে বসবাস করতে থাকেন ।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট এক সামরিক অভ্যুন্থানে তিনি ও তার বোন শেখ রেহানা বাদে পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করা হয় । বোনদ্বয় সেই সময় পড়াশোনার জন্য পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করেছিলেন । এরপর তিনি ভারত ,বেলজিয়াম সহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করতে থাকেন । বাংলাদেশ ্আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব প্রদানের লক্ষ্যে তিনি ১৯৮১ তে বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে প্রত্যাবর্তন করেন ।
১৯৮১ সালে তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয় । ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পঞ্চম জাতীয় সংসদে তিনি বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথম সরকার গঠন করেন। ২০০১ সালে তিনি আবার বিরোধী দলের নেতা হন। ২০০৮ সালে দ্বিতীয় এবং ২০১৪ সালে তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়ীত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুিষ্ঠত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনার অর্জন: ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কোর ফেলিক্স হোফোয়েট – বোইগনি শান্তি পুরস্কার, মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড,এমকে গান্ধী অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন থেকে দ্য সেরেস মেডেল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অস্ট্রেলীয় জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টর অফ ল ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০০ সালে ব্রিজপয়েন্ট বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডক্টর অফ হিউম্যান লেটার লাভ করেন। ২০০৬ সালে মাদার তেরেসা আজীবন সম্মাননা অ্যাওয়ার্ড। ২০১০ সালে ইন্দ্রিয়া গান্ধী শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১১ নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড পান। ২০১২ সালে দক্ষিন এশিয়ায় শান্তি এবং উন্নয়নের জন্য ভারতের ত্রিপুরা বিশ^বিদ্যালয় তাকে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করেন। ২০১৩ সালে রোটারী শান্তি পুরস্কার এবং ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ নির্মানে ভ’মিকার জন্য জাতিসংঘ পুরস্কার পান। ২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা জয়ের জন্য সাউথ সাউথ পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৫ সালে শেরেবাংলা কৃষি বিশ^বিদ্যালয় থেকে ডক্টও অফ দ্য ইউনিভার্সিটি ডিগ্রি লাভ করেন। ২০১৬ সালে নারীবিষয়ক সংস্থার প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন হন। ২০১৮ সালে রোহিঙ্গা সমস্যায় ভ’মিকা রাখায় গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে স্পেশাল ডিস্টিংশন অ্যাওয়ার্ড পান। ২০১৮ সালে নারী শিক্ষায় ভ’মিকা রাখার জন্য গ্লোবাল উইমেন সামিটে গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পান। ২০১৯ সালে শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখায় জিএভিআই এর পক্ষ থেকে ভ্যাকসিন হিরো অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। ২০১৯ ইউনিসেফের পক্ষ থেকে চ্যাম্পিয়ন অফ ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট। ২০১৯ এশিয়াটিক সোসাইটি কোলকাতার পক্ষ থেকে ঠাকুর শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন। ২০২১ সালে টেকসই উন্নয়নে লক্ষ অর্জনে সাফল্যের জন্য জাতিসংঘ সাসটেইনবল ডেভেলপসেন্ট নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে এসডিজি প্রগ্রেস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।
শেখ হাসিনার সাফল্য: শেখ হাসিনার সরকার টানা তৃতীয় মেয়াদসহ চতুর্থ বার দেশ পরিচালনা করছে। দেশবাসী এর সুফল পাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চুরান্ত নিস্পত্তি,একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য সম্পন্ন করা,সংবিধান সংশোধন করে মহান মুক্তিযুদ্ধেও চেতনা পূনঃপ্রতিষ্ঠা করা,ভারত ও মায়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিস্পত্তি, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফল উৎক্ষেপনের মধ্য দিয়ে মহাকাশ জয়, সাবমেরিন যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মান, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন,কর্নফুলী টাণেল,এলিভেটর এক্সপ্রেসওয়ে,নতুন নতুন উড়ালসেতু, মহাসড়ককে ফোর লেনে উন্নিত করণ,এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাথাপিছু আয় দুই হাজার ২২৭ মার্কিন ডলারে উন্নিত,মাত্র ৩.৫ বিলিয়ন ডলার থেকে রিজার্ভ ৪৮.০৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত,দারিদ্রের হার হ্রাস,মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭৩ বছরে উন্নীত, ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে শত ভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা, সাক্ষরতার হার ৭৫.৬০ শতাংশে উন্নীত করা, বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যে নতুন বই তুলে দেওয়া, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়  স্থাপন, চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নয়ন, প্রতি জেলায় একটি করে সরকারি/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়  স্থাপনের উদ্যোগ, নারীনীতি প্রণয়ন,ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ,ফোরজি মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার চালুসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে কালোত্তীর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
মহামারি করোনার সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপ জাতিসংঘ,বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা,যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী ফোর্বসসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছেন। করোনা মহামারি বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ধরে রাখতে কৃষি,শিল্পসহ অর্থনৈতিক খাতগুলোয় সময়োপযোগী ২৮ টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষনা করেন যাহা বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি রোল মডেল হিসাবে পরিগণিত হয়।

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার (সিআইপি)

সাবেক ছাত্রনেতা, চেয়ারম্যান, বিবিএস ও নাহী গ্রুপ।

image_print